ঢাকা , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অসহায় মানুষের ভরসাস্থল গাজীপুরের ডিসি: মানবিক বাংলাদেশ গড়ার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত নতুন বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার প্রস্তুতি, নিউইয়র্কে তারেক রহমান অভাব পেরিয়ে স্বাবলম্বিতার পথে বান্দরবানের ১০০ নারী কমব্যাট স্পোর্টসের বিশ্বমানচিত্রে বাংলাদেশ: নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলো ‘জেডএফসি জুলকান ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশীপ: শুরু হচ্ছে ZFC 2: Pride of Bangladesh জ্বালানি খাতের সাবেক কর্তাদের নতুন ঠিকানা এজাজের প্রতিষ্ঠান আইসিসিবির সুবিশাল পরিসরের ট্যুরিজম ফেয়ারে মিলবে পর্যটনের হাতছানি ছয় আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীর স্থানীয় প্রতিনিধিত্ব একই বলয়ে *বিদ্যুতের পুঞ্জীভূত সংকটে শুধু মন্ত্রীকে দোষারোপ কতটা যৌক্তিক?* রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র: ব্যক্তিস্বার্থ নাকি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা?

গেম খেলার কথা বলে বছরে ২০ কিশোরীকে ফাঁদে ফেলেছে শিশির

  • Avatar
  • আপডেট টাইম : ০৯:২৫:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩
  • ১৪০ টাইম ভিউ

বেসরকারি বিশ্বাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাসিউর রহমান শিশির (১৯)। ফ্রি ফায়ার ও পাবজি খেলার সহায়তার আশ্বাসে টার্গেট করতেন স্কুল-কলেজে পড়ুয়া কিশোরীদের। এরপর ফাঁদ পাততেন অনলাইনে পাবজি ও ফ্রি ফায়ার গেলার গ্রুপগুলোতে। শিশিরের পাতা ফাঁদে পা দেওয়া অল্প বয়সী কিশোরীদের নিয়ে গেমের দল গঠন করে শুরু করতেন প্রেম।

এরপর মোবাইল নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি নিয়ে নিয়মিত কথা বলতেন। পরবর্তীতে যা গড়ায় প্রেমের সম্পর্কে। এরপর গোপনে প্রেমিকার সঙ্গে আপত্তিকর মুহূর্তের ভিডিও ও ছবি তুলে রাখতেন শিশির। আর এগুলোকে হাতিয়ার বানিয়ে আরও আপত্তিকর ছবি-ভিডিও ও টাকা-পয়সা আদায় করতেন।

এডিসি আশরাফউল্লাহ বলেন, এক বছরে অন্তত ২০ কিশোরী শিশিরের ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি তার। এক ভুক্তভোগীর অভিযোগেরে পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ। সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার মোল্লাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, দুটি সিম ও ১৯টি এডিট করা অশ্লীল ভিডিও উদ্ধার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, তাসিউর রহমান শিশির ৩/৪ বছর ধরে ফ্রি ফায়ার ও পাবজি গেমে আসক্ত। এ গেমসগুলো খেলার জন্য এক বা একাধিক পার্টনারের প্রয়োজন হয়। শিশির গেমস দুটি খেলার সময় সবসময় কিশোরী ও তরুণীদের টার্গেট করে তার খেলার পার্টনার হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানায়। কোনো কিশোরী-তরুণী এ গেমস খেলার সময় তার পার্টনার হলে তাদের সঙ্গে সে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে। ফ্রি ফায়ার বা পাবজি গেমস খেলার সময় পার্টনাদের সঙ্গে অনলাইনে সংযুক্ত থেকে আলোচনা করে গেমস খেলার কৌশল ঠিক করতে হয়। তরুণী বা কিশোরীদের ফাঁদে ফেলার জন্য গেম দু’টি খেলার সময় পার্টনার হিসেবে কিশোরীদের খুঁজে বের করে সুকৌশলে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর, হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর, ইনস্টাগ্রাম আইডি অথবা ফেসবুক আইডি হাতিয়ে নিতো।

পরবর্তীতে তাদের মোবাইল নম্বর, হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর, ইনস্টাগ্রাম আইডি অথবা ফেসবুক আইডির মাধ্যমে যোগাযোগ করে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলে। বন্ধুত্ব চলাকালে তাদের বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ভিডিও কলে কথা বলে। একসময় মেয়েদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে সে। বিভিন্ন সময় সে ওই সব কিশোরীকে অনলাইন থেকে সংগৃহীত নগ্ন ছবি ও অশ্লীল ভিডিও পাঠিয়ে দিয়ে তাদের ভিডিও-কলে আসতে প্রলোভিত করতেন। মেয়েদের বিভিন্ন কৌশলে ভিডিও কলে এনে তা স্ক্রিন রেকর্ডারের মাধ্যমে রেকর্ড করে রাখে।পরবর্তীতে এসব ছবি ভিডিও প্রচারের ভয়ভীতি দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করে এবং মোটা অংকের টাকা দাবি করে।

ট্যাগ:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে
Avatar

জনপ্রিয় পোস্ট

অসহায় মানুষের ভরসাস্থল গাজীপুরের ডিসি: মানবিক বাংলাদেশ গড়ার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

গেম খেলার কথা বলে বছরে ২০ কিশোরীকে ফাঁদে ফেলেছে শিশির

আপডেট টাইম : ০৯:২৫:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩

বেসরকারি বিশ্বাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাসিউর রহমান শিশির (১৯)। ফ্রি ফায়ার ও পাবজি খেলার সহায়তার আশ্বাসে টার্গেট করতেন স্কুল-কলেজে পড়ুয়া কিশোরীদের। এরপর ফাঁদ পাততেন অনলাইনে পাবজি ও ফ্রি ফায়ার গেলার গ্রুপগুলোতে। শিশিরের পাতা ফাঁদে পা দেওয়া অল্প বয়সী কিশোরীদের নিয়ে গেমের দল গঠন করে শুরু করতেন প্রেম।

এরপর মোবাইল নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি নিয়ে নিয়মিত কথা বলতেন। পরবর্তীতে যা গড়ায় প্রেমের সম্পর্কে। এরপর গোপনে প্রেমিকার সঙ্গে আপত্তিকর মুহূর্তের ভিডিও ও ছবি তুলে রাখতেন শিশির। আর এগুলোকে হাতিয়ার বানিয়ে আরও আপত্তিকর ছবি-ভিডিও ও টাকা-পয়সা আদায় করতেন।

এডিসি আশরাফউল্লাহ বলেন, এক বছরে অন্তত ২০ কিশোরী শিশিরের ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি তার। এক ভুক্তভোগীর অভিযোগেরে পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ। সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার মোল্লাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, দুটি সিম ও ১৯টি এডিট করা অশ্লীল ভিডিও উদ্ধার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, তাসিউর রহমান শিশির ৩/৪ বছর ধরে ফ্রি ফায়ার ও পাবজি গেমে আসক্ত। এ গেমসগুলো খেলার জন্য এক বা একাধিক পার্টনারের প্রয়োজন হয়। শিশির গেমস দুটি খেলার সময় সবসময় কিশোরী ও তরুণীদের টার্গেট করে তার খেলার পার্টনার হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানায়। কোনো কিশোরী-তরুণী এ গেমস খেলার সময় তার পার্টনার হলে তাদের সঙ্গে সে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে। ফ্রি ফায়ার বা পাবজি গেমস খেলার সময় পার্টনাদের সঙ্গে অনলাইনে সংযুক্ত থেকে আলোচনা করে গেমস খেলার কৌশল ঠিক করতে হয়। তরুণী বা কিশোরীদের ফাঁদে ফেলার জন্য গেম দু’টি খেলার সময় পার্টনার হিসেবে কিশোরীদের খুঁজে বের করে সুকৌশলে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর, হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর, ইনস্টাগ্রাম আইডি অথবা ফেসবুক আইডি হাতিয়ে নিতো।

পরবর্তীতে তাদের মোবাইল নম্বর, হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর, ইনস্টাগ্রাম আইডি অথবা ফেসবুক আইডির মাধ্যমে যোগাযোগ করে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলে। বন্ধুত্ব চলাকালে তাদের বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ভিডিও কলে কথা বলে। একসময় মেয়েদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে সে। বিভিন্ন সময় সে ওই সব কিশোরীকে অনলাইন থেকে সংগৃহীত নগ্ন ছবি ও অশ্লীল ভিডিও পাঠিয়ে দিয়ে তাদের ভিডিও-কলে আসতে প্রলোভিত করতেন। মেয়েদের বিভিন্ন কৌশলে ভিডিও কলে এনে তা স্ক্রিন রেকর্ডারের মাধ্যমে রেকর্ড করে রাখে।পরবর্তীতে এসব ছবি ভিডিও প্রচারের ভয়ভীতি দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করে এবং মোটা অংকের টাকা দাবি করে।