নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা বাংলাদেশ :
মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে ভোলা সদর উপজেলার শিবপুরসহ আশপাশের এলাকা রক্ষায় প্রায় ৮০০ কোটি টাকার একটি বৃহৎ নদীতীর সংরক্ষণ ও শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে আশার আলো দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোকে স্থায়ীভাবে সুরক্ষার লক্ষ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় মেঘনা নদীর তীর সংরক্ষণ, সিসি ব্লক স্থাপন এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে ভোলা শহর, শিবপুর, ধনিয়া, মেদুয়াসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ জনপদ নদীভাঙনের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
ভোলা শহর রক্ষা বাঁধের শিবপুর ও মেদুয়া অংশ দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। চলতি বছরের জুন মাসেও ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দারা স্থায়ী সিসি ব্লক স্থাপন ও কার্যকর নদীভাঙন প্রতিরোধের দাবিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয় ঘেরাও ও স্মারকলিপি কর্মসূচি পালন করেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ভোলা শহর রক্ষা বাঁধের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২৩ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ৮ কিলোমিটার অংশে মেঘনা তীর সংরক্ষণ ব্লক বাঁধ রয়েছে। অবশিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ অংশেও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে ভোলা শহর রক্ষা বাঁধের শিবপুরসহ ভাঙনকবলিত এলাকায় ৪ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ ও ৬ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণে ৭৩০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড।
নতুন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মেঘনার অব্যাহত ভাঙন থেকে ভোলা শহর ও আশপাশের জনপদ রক্ষার পাশাপাশি বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষিত হবে বলে স্থানীয়দের প্রত্যাশা।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগকে ভোলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তারা দ্রুত প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ও কার্যকর বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।




















