ঢাকা , শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তিন মাসের প্রশিক্ষণে দক্ষতা অর্জন, এবার আয়ের সুযোগ ১০০ নারীর প্রতি শুক্রবার আইসিসিবিতে গাড়িপ্রেমীদের মিলনমেলা শহীদ জিয়ার ৭ নভেম্বর থেকে তারেক রহমানের ’২৪-এর আন্দোলন সরকারি দাপ্তরিক খরচ কমলে শ্রমিকদের ৩০-৪০ হাজার টাকা বেতন দেওয়া সম্ভব: মাসুদুজ্জামান মাসুদ নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতায় শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিরে তাগিদ স্লোগান নিয়ে বিতর্কে ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালককে প্রত্যাহার হামের টিকা সংকটে ইউনূস সরকারের ভূমিকা তদন্তে তিন সদস্যের কমিশন রিফাইনারির অনুমোদন নেই, বিপিসির কাছে ১২ লাখ টন ক্রুড চায় সুপার পেট্রোকেমিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্নমত দমনের অভিযোগ, বাংলাদেশের প্রতি এইচআরডব্লিউর সতর্কবার্তা বর্ণাঢ্য আয়োজনের সমাপ্ত হলো ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’ ফুটবল টুর্নামেন্ট

সরকারি দাপ্তরিক খরচ কমলে শ্রমিকদের ৩০-৪০ হাজার টাকা বেতন দেওয়া সম্ভব: মাসুদুজ্জামান মাসুদ

  • Avatar
  • আপডেট টাইম : ০২:৫৫:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
  • ১৭ টাইম ভিউ

 

​নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রতিক শিল্পাঞ্চল পরিস্থিতি ও শ্রমিকদের মজুরি প্রসঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় অত্যন্ত বিস্ফোরক ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ। তিনি দাবি করেছেন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের অতিরিক্ত খরচ, লাইসেন্স ফি এবং বিভিন্ন অননুমোদিত ব্যয়ের বোঝা না থাকলে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকার পরিবর্তে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন দিতে সক্ষম হতো।

​বুধবার (চাঁদমারী এলাকার চেম্বার ভবনে) আয়োজিত ওই মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও চেম্বার সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু।

​সভায় ব্যবসায়ীদের নানা সংকটের কথা তুলে ধরে মাসুদুজ্জামান মাসুদ বলেন, “আপনাদের পয়সা না দিলে শ্রমিকদের ৩০ না, ৪০ হাজার টাকা বেতন দিতে পারতাম।”

​তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, জন্মদিন, কাস্টমসের ফি, এনবিআরের নানা দাবি এবং বিভিন্ন লাইসেন্স নবায়নসহ প্রতিটি পদেই কাগজপত্রের জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়। বছরের পর বছর এই লাখ লাখ ও কোটি কোটি টাকা দিতে দিতে ব্যবসায়ীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। অতিরিক্ত এই ব্যয়ের কারণেই অনেক সময় শ্রমিকদের কাঙ্ক্ষিত সুযোগ-সুবিধা বা মজুরি দেওয়া ব্যবসায়ীদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

​ব্যবসায়ী নেতা সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবিলম্বে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর জোরালো দাবি জানান। তিনি বলেন, এই সেবা নিশ্চিত করা হলে এবং অপ্রয়োজনীয় দাপ্তরিক জটিলতা ও হয়রানি বন্ধ হলে শ্রমিকদের যে পরিমাণ বেতনই দিতে হোক না কেন, মালিকপক্ষ তা পরিশোধ করতে প্রস্তুত রয়েছে।

​এ সময় সমাজের কিছু প্রভাবশালী মহল ও বুদ্ধিজীবীদের সমালোচনার জবাব দিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে বা বক্তব্যে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ভুল বার্তা দেওয়া হয়। প্রগতিশীল বা সুশীল সমাজের অনেকেই মনে করেন ব্যবসায়ীরা মিষ্টি কথা বলে শ্রমিকদের ঠকান এবং ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করেন। অথচ কলকারখানা টিকিয়ে রাখতে এবং পদে পদে দাপ্তরিক চাঁদাবাজি ও খরচ সামলাতে গিয়ে ব্যবসায়ীরা যে কী পরিমাণ সংকটের মুখোমুখি হন, তা অনেকেই উপলব্ধি করেন না।

​শিল্পাঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের এই ক্ষোভ ও দাপ্তরিক জটিলতা নিরসনের দাবি সংশ্লিষ্ট মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার সুরক্ষার পাশাপাশি শিল্প খাত টিকিয়ে রাখতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও দুর্নীতি কমানো এখন সময়ের দাবি।

ট্যাগ:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে
Avatar

জনপ্রিয় পোস্ট

তিন মাসের প্রশিক্ষণে দক্ষতা অর্জন, এবার আয়ের সুযোগ ১০০ নারীর

সরকারি দাপ্তরিক খরচ কমলে শ্রমিকদের ৩০-৪০ হাজার টাকা বেতন দেওয়া সম্ভব: মাসুদুজ্জামান মাসুদ

আপডেট টাইম : ০২:৫৫:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

 

​নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রতিক শিল্পাঞ্চল পরিস্থিতি ও শ্রমিকদের মজুরি প্রসঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় অত্যন্ত বিস্ফোরক ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ। তিনি দাবি করেছেন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের অতিরিক্ত খরচ, লাইসেন্স ফি এবং বিভিন্ন অননুমোদিত ব্যয়ের বোঝা না থাকলে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকার পরিবর্তে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন দিতে সক্ষম হতো।

​বুধবার (চাঁদমারী এলাকার চেম্বার ভবনে) আয়োজিত ওই মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও চেম্বার সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু।

​সভায় ব্যবসায়ীদের নানা সংকটের কথা তুলে ধরে মাসুদুজ্জামান মাসুদ বলেন, “আপনাদের পয়সা না দিলে শ্রমিকদের ৩০ না, ৪০ হাজার টাকা বেতন দিতে পারতাম।”

​তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, জন্মদিন, কাস্টমসের ফি, এনবিআরের নানা দাবি এবং বিভিন্ন লাইসেন্স নবায়নসহ প্রতিটি পদেই কাগজপত্রের জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়। বছরের পর বছর এই লাখ লাখ ও কোটি কোটি টাকা দিতে দিতে ব্যবসায়ীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। অতিরিক্ত এই ব্যয়ের কারণেই অনেক সময় শ্রমিকদের কাঙ্ক্ষিত সুযোগ-সুবিধা বা মজুরি দেওয়া ব্যবসায়ীদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

​ব্যবসায়ী নেতা সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবিলম্বে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর জোরালো দাবি জানান। তিনি বলেন, এই সেবা নিশ্চিত করা হলে এবং অপ্রয়োজনীয় দাপ্তরিক জটিলতা ও হয়রানি বন্ধ হলে শ্রমিকদের যে পরিমাণ বেতনই দিতে হোক না কেন, মালিকপক্ষ তা পরিশোধ করতে প্রস্তুত রয়েছে।

​এ সময় সমাজের কিছু প্রভাবশালী মহল ও বুদ্ধিজীবীদের সমালোচনার জবাব দিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে বা বক্তব্যে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ভুল বার্তা দেওয়া হয়। প্রগতিশীল বা সুশীল সমাজের অনেকেই মনে করেন ব্যবসায়ীরা মিষ্টি কথা বলে শ্রমিকদের ঠকান এবং ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করেন। অথচ কলকারখানা টিকিয়ে রাখতে এবং পদে পদে দাপ্তরিক চাঁদাবাজি ও খরচ সামলাতে গিয়ে ব্যবসায়ীরা যে কী পরিমাণ সংকটের মুখোমুখি হন, তা অনেকেই উপলব্ধি করেন না।

​শিল্পাঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের এই ক্ষোভ ও দাপ্তরিক জটিলতা নিরসনের দাবি সংশ্লিষ্ট মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার সুরক্ষার পাশাপাশি শিল্প খাত টিকিয়ে রাখতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও দুর্নীতি কমানো এখন সময়ের দাবি।