ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বসুন্ধরা কনভেনশন সিটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষামেলা: এক ছাদের নিচে দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় আবাসন খাতের সরকারি সেবা ডিজিটাল করার দাবি রিহ্যাবের অর্থ পাচার ও সুইস ব্যাংকে আমানত বৃদ্ধি, প্রশ্নের মুখে বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের নীতি বিএনপি সরকারের চার মাস: সুন্দর পরিকল্পনাগুলো কেন আটকে যাচ্ছে? পথহারা কূটনীতি, ফেরাতে হবে সঠিক পথে ছয় শিশুর মৃত্যুর বিচার হয়, ছয়শ শিশুর ঘাতকরা শাস্তি পায় না! আবাসন খাতে চরম মন্দা: অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বিশেষ প্রণোদনার তাগিদ পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ: গ্রামীণ বাংলাদেশের ভাগ্যবদল করছেন তারেক রহমান বাজেট ২০২৬-২৭: চ্যালেঞ্জ উত্তরণে ত্রিমুখী কৌশলের বিকল্প নেই ইউনূস সরকারের রেখে যাওয়া ‘অবসাদ’ ও আমলাতান্ত্রিক দেওয়াল: বাজেট বাস্তবায়নে মূল বাধা

বদলি ঠেকাতে দৌড়ঝাঁপ ওসিদের!

  • Avatar
  • আপডেট টাইম : ১১:২৪:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৩
  • ১৯৪ টাইম ভিউ

দেশ 24 নিউজ ডেস্ক:

নির্বাচন কমিশন (ইসি) বদলির নির্দেশ দেওয়ার পর ভালো নেতার আশ্রয়ে ও পছন্দের থানা পেতে অনেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। অনেকে বদলি ঠেকানোর জন্য সচিব ও প্রভাবশালী নেতাদের দিয়েও পুলিশের ওপর মহলে সুপারিশ করাচ্ছেন।

সোমবার (৪ ডিসেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপির সদর দপ্তরের একাধিক সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করে। সূত্র জানায়, অনেক থানার ওসি বদলি না হওয়ার জন্য চেষ্টা-তদবির করছেন। এ জন্য তারা বেশ কয়েক দিন ধরে পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপির সদর দপ্তরে দৌড়ঝাঁপ করছেন। এসব কর্মকর্তা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও ধরনা দিচ্ছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, অনেকেই অনুরোধ করছেন তাদের যেন সুবিধামতো থানায় বদলি করা হয়। অনেকেই কারণ হিসেবে তাদের পরিবারের সমস্যা ও সন্তানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বদলানোর জটিলতার কথা বলছেন।

সূত্র বলছে, অনেক পুলিশ কর্মকর্তা আবার প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের বাসা ও অফিসে ছোটাছুটি করছেন। এসব বিষয়ে তাদের কাছে তদবির করছেন বিভিন্ন মাধ্যমে। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন ছয় মাসের বেশি সময় ধরে একই থানায় ওসির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকে বদলির নির্দেশ দেয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, এর পরই ছয় মাসের বেশি সময় ধরে একই স্টেশনে থাকা ওসিদের তালিকা তৈরি করে তাদের বদলি করার সিদ্ধান্ত নেয়। সে অনুযায়ী সারা দেশে ৬৩৬ থানার মধ্যে প্রায় ৫ শতাধিক ওসির তালিকা করা হয়। এরই মধ্যে অনেকেই ছয় মাস বা তার বেশি সময় ধরে কর্মরত রয়েছেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার আলোকে তারা ডিএমপির ওসিদের বদলির কাজ শুরু করেছেন।

ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারের এডিসি নিয়তি রায় জানান, গত ৩০ নভেম্বরের নির্বাচন কমিশনের পত্রের আলোকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যেসব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বর্তমান কর্মস্থলে ছয় মাসের অধিক চাকরিকাল সম্পন্ন হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাদের অন্যত্র বদলির প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য শিগগির নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে।

ডিএমপির সদর দপ্তরে কর্মরত এক ডিসি জানান, অনেক থানার ওসি বদলি হতে চান না। তারা পরিবারের নানা ধরনের সমস্যার কথা জানান। অনেকে বদলি ঠেকাতে সচিব ও নেতাদের দিয়েও পুলিশের ওপর মহলে সুপারিশ করাচ্ছেন।

এদিকে সারা দেশের থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বদলির সময় তিন দিন বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল ইসির উপসচিব মো. মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবকে পাঠানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, সব থানার ওসিকে পর্যায়ক্রমে বদলির প্রস্তাব নির্বাচন কমিশনে ৫ ডিসেম্বরের পরিবর্তে আগামী ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রেরণ নিশ্চিত করতে হবে। গত ৩০ নভেম্বর আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) পর্যায়ক্রমে বদলি করার সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন।

ট্যাগ:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে
Avatar

বসুন্ধরা কনভেনশন সিটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষামেলা: এক ছাদের নিচে দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়

বদলি ঠেকাতে দৌড়ঝাঁপ ওসিদের!

আপডেট টাইম : ১১:২৪:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৩

দেশ 24 নিউজ ডেস্ক:

নির্বাচন কমিশন (ইসি) বদলির নির্দেশ দেওয়ার পর ভালো নেতার আশ্রয়ে ও পছন্দের থানা পেতে অনেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। অনেকে বদলি ঠেকানোর জন্য সচিব ও প্রভাবশালী নেতাদের দিয়েও পুলিশের ওপর মহলে সুপারিশ করাচ্ছেন।

সোমবার (৪ ডিসেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপির সদর দপ্তরের একাধিক সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করে। সূত্র জানায়, অনেক থানার ওসি বদলি না হওয়ার জন্য চেষ্টা-তদবির করছেন। এ জন্য তারা বেশ কয়েক দিন ধরে পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপির সদর দপ্তরে দৌড়ঝাঁপ করছেন। এসব কর্মকর্তা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও ধরনা দিচ্ছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, অনেকেই অনুরোধ করছেন তাদের যেন সুবিধামতো থানায় বদলি করা হয়। অনেকেই কারণ হিসেবে তাদের পরিবারের সমস্যা ও সন্তানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বদলানোর জটিলতার কথা বলছেন।

সূত্র বলছে, অনেক পুলিশ কর্মকর্তা আবার প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের বাসা ও অফিসে ছোটাছুটি করছেন। এসব বিষয়ে তাদের কাছে তদবির করছেন বিভিন্ন মাধ্যমে। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন ছয় মাসের বেশি সময় ধরে একই থানায় ওসির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকে বদলির নির্দেশ দেয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, এর পরই ছয় মাসের বেশি সময় ধরে একই স্টেশনে থাকা ওসিদের তালিকা তৈরি করে তাদের বদলি করার সিদ্ধান্ত নেয়। সে অনুযায়ী সারা দেশে ৬৩৬ থানার মধ্যে প্রায় ৫ শতাধিক ওসির তালিকা করা হয়। এরই মধ্যে অনেকেই ছয় মাস বা তার বেশি সময় ধরে কর্মরত রয়েছেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার আলোকে তারা ডিএমপির ওসিদের বদলির কাজ শুরু করেছেন।

ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারের এডিসি নিয়তি রায় জানান, গত ৩০ নভেম্বরের নির্বাচন কমিশনের পত্রের আলোকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যেসব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বর্তমান কর্মস্থলে ছয় মাসের অধিক চাকরিকাল সম্পন্ন হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাদের অন্যত্র বদলির প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য শিগগির নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে।

ডিএমপির সদর দপ্তরে কর্মরত এক ডিসি জানান, অনেক থানার ওসি বদলি হতে চান না। তারা পরিবারের নানা ধরনের সমস্যার কথা জানান। অনেকে বদলি ঠেকাতে সচিব ও নেতাদের দিয়েও পুলিশের ওপর মহলে সুপারিশ করাচ্ছেন।

এদিকে সারা দেশের থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বদলির সময় তিন দিন বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল ইসির উপসচিব মো. মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবকে পাঠানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, সব থানার ওসিকে পর্যায়ক্রমে বদলির প্রস্তাব নির্বাচন কমিশনে ৫ ডিসেম্বরের পরিবর্তে আগামী ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রেরণ নিশ্চিত করতে হবে। গত ৩০ নভেম্বর আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) পর্যায়ক্রমে বদলি করার সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন।