ঢাকা , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অসহায় মানুষের ভরসাস্থল গাজীপুরের ডিসি: মানবিক বাংলাদেশ গড়ার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত নতুন বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার প্রস্তুতি, নিউইয়র্কে তারেক রহমান অভাব পেরিয়ে স্বাবলম্বিতার পথে বান্দরবানের ১০০ নারী কমব্যাট স্পোর্টসের বিশ্বমানচিত্রে বাংলাদেশ: নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলো ‘জেডএফসি জুলকান ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশীপ: শুরু হচ্ছে ZFC 2: Pride of Bangladesh জ্বালানি খাতের সাবেক কর্তাদের নতুন ঠিকানা এজাজের প্রতিষ্ঠান আইসিসিবির সুবিশাল পরিসরের ট্যুরিজম ফেয়ারে মিলবে পর্যটনের হাতছানি ছয় আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীর স্থানীয় প্রতিনিধিত্ব একই বলয়ে *বিদ্যুতের পুঞ্জীভূত সংকটে শুধু মন্ত্রীকে দোষারোপ কতটা যৌক্তিক?* রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র: ব্যক্তিস্বার্থ নাকি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা?

১৫ মাস পর জবি শিক্ষার্থী খাদিজার কারামুক্তি

  • Avatar
  • আপডেট টাইম : ০৫:৫৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০২৩
  • ১৮৮ টাইম ভিউ

দেশ 24 নিউজ ডেস্ক:

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা অবশেষে জামিনে কারামুক্তি পেয়েছেন।

দীর্ঘ প্রায় ১৫ মাস পর সোমবার (২০ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেলেন তিনি। তার জামিন আদেশ রোববার (১৯ নভেম্বর) সন্ধ্যার দিকে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়। কাশিমপুর মহিলা কারাগারের ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র সুপার মো. শাহজাহান মিয়া এ তথ্য জানান।

শাহজাহান মিয়া জানান, রোববার জামিনের কাগজপত্র কারাগারে আসার পর তা যাচাই-বাছাই করা হয়। সোমবার ভোরে তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু পরিবারের কোনো সদস্য না আসায় তিনি কারাগার থেকে বের হতে চাচ্ছিলেন না। পরে তার বোন এলে সকাল ৯টার দিকে তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়।

তিনি আরও জানান, খাদিজাতুল কুবরাকে হাইকোর্টের দেয়া জামিনের ওপর চেম্বার আদালত যে স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন, পরে তা আপিল বিভাগ বাতিল করেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষ জামিন বাতিল চেয়ে যে আপিল করেছিলেন, তাও খারিজ করেছেন আপিল বিভাগ। ফলে তার হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল থাকে। এ আদেশের ফলে খাদিজার মুক্তিতে আর কোনো বাধা ছিল না।

গত বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ৬ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ খাদিজার মামলার বিষয়ে আদেশ দেন। আদালতে খাদিজার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট বি এম ইলিয়াস কচি ও ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সাইফুল আলম।

এর আগে, গত ১০ জুলাই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের দুই মামলায় জগন্নাথের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরার জামিন শুনানি চার মাসের জন্য মুলতবি করেছিলেন আপিল বিভাগ।

অনলাইনে সরকারবিরোধী বক্তব্য প্রচার এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে ২০২০ সালের অক্টোবরে খাদিজাতুল কুবরা এবং অবসরপ্রাপ্ত মেজর দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পুলিশ কলাবাগান ও নিউমার্কেট থানায় পৃথক দুটি মামলা করে।

নিউমার্কেট থানার মামলায় এসআই খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘২০২০ সালের ১১ অক্টোবর সকাল ৬টা ২৫ মিনিটে মোবাইলফোনে মেজর (অব.) দেলোয়ারের ইউটিউব চ্যানেলে তিনি একটি ভিডিও দেখতে পান। ‘হিউম্যানিটি ফর বাংলাদেশ’ শিরোনামে ওই ভিডিওর সঞ্চালক খাদিজাতুল কুবরার উপস্থাপনায় দেলোয়ার হোসেন তার বক্তব্যে বাংলাদেশের বৈধ গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাতে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন। পরে মামলাটি রেকর্ড করা হয় সকাল ৮টা ১০ মিনিটে। মামলার এজাহারের সঙ্গে তিন পাতার স্ক্রিনশট ও ভিডিওসংবলিত সিডি সংযুক্ত করা হয়।

মামলায় অভিযোগ আনা হয়, খাদিজাতুল কুবরা ও দেলোয়ার ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের বৈধ সরকারকে উৎখাতের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মনগড়া, বানোয়াট, মিথ্যা, মানহানিকর অপপ্রচার চালিয়ে আসছিলেন। আসামিরা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা, ঘৃণা ও বিদ্বেষ সৃষ্টির অপচেষ্টাসহ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের প্রয়াস চালাচ্ছেন।

নিউমার্কেট থানায় মামলা করার আট দিনের মাথায় কলাবাগান থানায় আরেকটি মামলা করেন এসআই আরিফ হোসেন।

কলাবাগান থানার মামলার এজাহারেও উল্লেখ করা হয়, ২০২০ সালের ১৯ অক্টোবর রাত ৯টা ১৫ মিনিটে মোবাইলফোনে ইউটিউব দেখার সময় দেলোয়ার হোসেনের ইউটিউব চ্যানেল দেখতে পান। ওইদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি থানায় মামলা করেন।

দুই মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দেয়ার পর ২০২২ সালের ২৭ আগস্ট মিরপুরের বাসা থেকে খাদিজাকে গ্রেফতার করে নিউমার্কেট থানা পুলিশ। তখন থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন। আর দেলোয়ার বিদেশে পলাতক আছেন।

ট্যাগ:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে
Avatar

জনপ্রিয় পোস্ট

অসহায় মানুষের ভরসাস্থল গাজীপুরের ডিসি: মানবিক বাংলাদেশ গড়ার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

১৫ মাস পর জবি শিক্ষার্থী খাদিজার কারামুক্তি

আপডেট টাইম : ০৫:৫৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০২৩

দেশ 24 নিউজ ডেস্ক:

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা অবশেষে জামিনে কারামুক্তি পেয়েছেন।

দীর্ঘ প্রায় ১৫ মাস পর সোমবার (২০ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেলেন তিনি। তার জামিন আদেশ রোববার (১৯ নভেম্বর) সন্ধ্যার দিকে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়। কাশিমপুর মহিলা কারাগারের ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র সুপার মো. শাহজাহান মিয়া এ তথ্য জানান।

শাহজাহান মিয়া জানান, রোববার জামিনের কাগজপত্র কারাগারে আসার পর তা যাচাই-বাছাই করা হয়। সোমবার ভোরে তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু পরিবারের কোনো সদস্য না আসায় তিনি কারাগার থেকে বের হতে চাচ্ছিলেন না। পরে তার বোন এলে সকাল ৯টার দিকে তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়।

তিনি আরও জানান, খাদিজাতুল কুবরাকে হাইকোর্টের দেয়া জামিনের ওপর চেম্বার আদালত যে স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন, পরে তা আপিল বিভাগ বাতিল করেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষ জামিন বাতিল চেয়ে যে আপিল করেছিলেন, তাও খারিজ করেছেন আপিল বিভাগ। ফলে তার হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল থাকে। এ আদেশের ফলে খাদিজার মুক্তিতে আর কোনো বাধা ছিল না।

গত বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ৬ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ খাদিজার মামলার বিষয়ে আদেশ দেন। আদালতে খাদিজার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট বি এম ইলিয়াস কচি ও ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সাইফুল আলম।

এর আগে, গত ১০ জুলাই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের দুই মামলায় জগন্নাথের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরার জামিন শুনানি চার মাসের জন্য মুলতবি করেছিলেন আপিল বিভাগ।

অনলাইনে সরকারবিরোধী বক্তব্য প্রচার এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে ২০২০ সালের অক্টোবরে খাদিজাতুল কুবরা এবং অবসরপ্রাপ্ত মেজর দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পুলিশ কলাবাগান ও নিউমার্কেট থানায় পৃথক দুটি মামলা করে।

নিউমার্কেট থানার মামলায় এসআই খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘২০২০ সালের ১১ অক্টোবর সকাল ৬টা ২৫ মিনিটে মোবাইলফোনে মেজর (অব.) দেলোয়ারের ইউটিউব চ্যানেলে তিনি একটি ভিডিও দেখতে পান। ‘হিউম্যানিটি ফর বাংলাদেশ’ শিরোনামে ওই ভিডিওর সঞ্চালক খাদিজাতুল কুবরার উপস্থাপনায় দেলোয়ার হোসেন তার বক্তব্যে বাংলাদেশের বৈধ গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাতে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন। পরে মামলাটি রেকর্ড করা হয় সকাল ৮টা ১০ মিনিটে। মামলার এজাহারের সঙ্গে তিন পাতার স্ক্রিনশট ও ভিডিওসংবলিত সিডি সংযুক্ত করা হয়।

মামলায় অভিযোগ আনা হয়, খাদিজাতুল কুবরা ও দেলোয়ার ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের বৈধ সরকারকে উৎখাতের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মনগড়া, বানোয়াট, মিথ্যা, মানহানিকর অপপ্রচার চালিয়ে আসছিলেন। আসামিরা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা, ঘৃণা ও বিদ্বেষ সৃষ্টির অপচেষ্টাসহ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের প্রয়াস চালাচ্ছেন।

নিউমার্কেট থানায় মামলা করার আট দিনের মাথায় কলাবাগান থানায় আরেকটি মামলা করেন এসআই আরিফ হোসেন।

কলাবাগান থানার মামলার এজাহারেও উল্লেখ করা হয়, ২০২০ সালের ১৯ অক্টোবর রাত ৯টা ১৫ মিনিটে মোবাইলফোনে ইউটিউব দেখার সময় দেলোয়ার হোসেনের ইউটিউব চ্যানেল দেখতে পান। ওইদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি থানায় মামলা করেন।

দুই মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দেয়ার পর ২০২২ সালের ২৭ আগস্ট মিরপুরের বাসা থেকে খাদিজাকে গ্রেফতার করে নিউমার্কেট থানা পুলিশ। তখন থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন। আর দেলোয়ার বিদেশে পলাতক আছেন।