ঢাকা , বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আইসিসিবির সুবিশাল পরিসরের ট্যুরিজম ফেয়ারে মিলবে পর্যটনের হাতছানি ছয় আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীর স্থানীয় প্রতিনিধিত্ব একই বলয়ে *বিদ্যুতের পুঞ্জীভূত সংকটে শুধু মন্ত্রীকে দোষারোপ কতটা যৌক্তিক?* রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র: ব্যক্তিস্বার্থ নাকি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা? ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের বিদ্যুৎ সংকটের দায় কার? নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত ও বর্তমান বাস্তবতা বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে লোকসান ও বাজার সংস্কারের উদ্যোগ ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প: মাঠ কাঁপাতে প্রস্তুত বসুন্ধরা কিংস দুর্নীতির অভিযোগে ঘেরা ইউনূস সরকারের উপদেষ্টারা, তদন্তের অপেক্ষায় দেশ আস্থা ফেরাতে নতুন উদ্যোগ, গুলশানে হচ্ছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মডেল শাখা

হেফাজতে ইসলামের মে ৩ মহাসমাবেশ: রাষ্ট্রের নীরবতা বাংলাদেশের কফিনে শেষ পেরেক!

  • Avatar
  • আপডেট টাইম : ০৬:২২:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ মে ২০২৫
  • ৪৯১ টাইম ভিউ

সুমিয়া সিমু- যুক্তরাজ্য

৩ মে ২০২৫, সুহরাওয়ার্দী উদ্যান। হাজার হাজার হেফাজত অনুসারীর স্লোগানে ঢাকা কেঁপে উঠেছিল। কিন্তু এটি কোনো ধর্মীয় আয়োজন নয়- এটি ছিল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে ঘোষিত যুদ্ধ।

এই মহাসমাবেশের মঞ্চ থেকে যে বিষ উগরে দেওয়া হয়েছে, তা কেবল সংখ্যালঘুদের নয়, পুরো বাংলাদেশের জন্য হুমকি। নারীকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক বানানোর আহ্বান, মুক্তচিন্তার বিরুদ্ধে হুমকি, এবং “শুধু ইসলামই রাষ্ট্রের আইন” – এ যেন বাংলাদেশের উপর খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া।
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো রাষ্ট্রের লজ্জাজনক নীরবতা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল, কিন্তু তাদের চোখে মুখে ভয় এবং আত্মসমর্পণ। এ যেন সরকারের নীরব সমর্থন – অথবা কৌশলগত মিত্রতা।

আমাদের ইতিহাস প্রমাণ করেছে, যখন উগ্রবাদীরা রাস্তা দখল করে এবং রাষ্ট্র নীরব থাকে, তখনই রক্ত ঝরে। ২০১৩ সালে যেমন ঘটেছিল, আজও সেই অশুভ ছায়া ফিরে এসেছে। হেফাজতের মে ৩ মহাসমাবেশ একটি সতর্কবার্তা নয়, এটি বাংলাদেশের কফিনে শেষ পেরেক।
আজ যদি আমরা চুপ থাকি, কাল হয়তো এই সমাবেশের মঞ্চ থেকেই ঘোষণা হবে – বাংলাদেশ এখন তালেবান রাষ্ট্র।
বাংলাদেশের মানুষকে বেছে নিতে হবে – আমরা কি মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের রক্তের উপর দাঁড়ানো ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র চাই, নাকি হেফাজতের উগ্রপন্থার দাসত্বে মাথা নত করব?

ট্যাগ:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে
Avatar

জনপ্রিয় পোস্ট

আইসিসিবির সুবিশাল পরিসরের ট্যুরিজম ফেয়ারে মিলবে পর্যটনের হাতছানি

হেফাজতে ইসলামের মে ৩ মহাসমাবেশ: রাষ্ট্রের নীরবতা বাংলাদেশের কফিনে শেষ পেরেক!

আপডেট টাইম : ০৬:২২:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ মে ২০২৫

সুমিয়া সিমু- যুক্তরাজ্য

৩ মে ২০২৫, সুহরাওয়ার্দী উদ্যান। হাজার হাজার হেফাজত অনুসারীর স্লোগানে ঢাকা কেঁপে উঠেছিল। কিন্তু এটি কোনো ধর্মীয় আয়োজন নয়- এটি ছিল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে ঘোষিত যুদ্ধ।

এই মহাসমাবেশের মঞ্চ থেকে যে বিষ উগরে দেওয়া হয়েছে, তা কেবল সংখ্যালঘুদের নয়, পুরো বাংলাদেশের জন্য হুমকি। নারীকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক বানানোর আহ্বান, মুক্তচিন্তার বিরুদ্ধে হুমকি, এবং “শুধু ইসলামই রাষ্ট্রের আইন” – এ যেন বাংলাদেশের উপর খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া।
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো রাষ্ট্রের লজ্জাজনক নীরবতা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল, কিন্তু তাদের চোখে মুখে ভয় এবং আত্মসমর্পণ। এ যেন সরকারের নীরব সমর্থন – অথবা কৌশলগত মিত্রতা।

আমাদের ইতিহাস প্রমাণ করেছে, যখন উগ্রবাদীরা রাস্তা দখল করে এবং রাষ্ট্র নীরব থাকে, তখনই রক্ত ঝরে। ২০১৩ সালে যেমন ঘটেছিল, আজও সেই অশুভ ছায়া ফিরে এসেছে। হেফাজতের মে ৩ মহাসমাবেশ একটি সতর্কবার্তা নয়, এটি বাংলাদেশের কফিনে শেষ পেরেক।
আজ যদি আমরা চুপ থাকি, কাল হয়তো এই সমাবেশের মঞ্চ থেকেই ঘোষণা হবে – বাংলাদেশ এখন তালেবান রাষ্ট্র।
বাংলাদেশের মানুষকে বেছে নিতে হবে – আমরা কি মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের রক্তের উপর দাঁড়ানো ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র চাই, নাকি হেফাজতের উগ্রপন্থার দাসত্বে মাথা নত করব?