ঢাকা , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অসহায় মানুষের ভরসাস্থল গাজীপুরের ডিসি: মানবিক বাংলাদেশ গড়ার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত নতুন বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার প্রস্তুতি, নিউইয়র্কে তারেক রহমান অভাব পেরিয়ে স্বাবলম্বিতার পথে বান্দরবানের ১০০ নারী কমব্যাট স্পোর্টসের বিশ্বমানচিত্রে বাংলাদেশ: নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলো ‘জেডএফসি জুলকান ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশীপ: শুরু হচ্ছে ZFC 2: Pride of Bangladesh জ্বালানি খাতের সাবেক কর্তাদের নতুন ঠিকানা এজাজের প্রতিষ্ঠান আইসিসিবির সুবিশাল পরিসরের ট্যুরিজম ফেয়ারে মিলবে পর্যটনের হাতছানি ছয় আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীর স্থানীয় প্রতিনিধিত্ব একই বলয়ে *বিদ্যুতের পুঞ্জীভূত সংকটে শুধু মন্ত্রীকে দোষারোপ কতটা যৌক্তিক?* রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র: ব্যক্তিস্বার্থ নাকি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা?

যুক্তরাজ্যে তদন্তাধীন, পাকিস্তানে জনপ্রতিনিধি হলেন রুখসার আহমেদ

  • Avatar
  • আপডেট টাইম : ০৩:২৮:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪২ টাইম ভিউ

 

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ১৯৯০-এর দশকে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের ধর্ষণ ও পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া পাকিস্তানের সাবেক এক রাজ্য মন্ত্রী রুখসার আহমেদ আবারও দেশটির রাজনীতিতে ফিরেছেন। যুক্তরাজ্যে পুলিশের জামিনে থাকা অবস্থায় গত সপ্তাহে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের আইনসভা নির্বাচনে তিনি এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।

 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ৬২ বছর বয়সী রুখসার আহমেদকে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ম্যানচেস্টার বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ১৯৯০-এর দশকে ম্যানচেস্টারের রুশোলম এলাকায় শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রের (কেয়ার হোম) কয়েকজন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে যৌন নির্যাতন ও পাচারের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যে পুলিশি জামিনে রয়েছেন। গত মাসে তাকে ম্যানচেস্টারের একটি থানায় হাজির হয়ে জামিনের শর্ত পূরণ করার কথা থাকলেও তিনি উপস্থিত হননি। তার পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি অসুস্থ থাকায় বিমানে ভ্রমণ করতে পারেননি।

 

তবে একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে তাকে পাকিস্তানের মিরপুর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে দেখা গেছে।

 

রুখসার আহমেদ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)-এর প্রার্থী হিসেবে আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে তিনি ২০০৬ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে রাজ্য সরকারের মন্ত্রী ছিলেন।

 

পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে গার্ডিয়ান জানিয়েছে, গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ (জিএমপি) ২০২৪ সালে তার জামিনের শর্ত হিসেবে বিদেশ ভ্রমণে কড়াকড়ি আরোপ করতে চেয়েছিল। তবে আদালত সে সময় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের অনুমতি দেয়নি।

 

অভিযোগের তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, রুখসার আহমেদ দীর্ঘদিন ম্যানচেস্টারের রুশোলম এলাকায় বসবাস করেছেন। ওই এলাকায় তার ব্যবসায়িক পরিচিতিও রয়েছে। তিনি ‘গুজ্জর প্যালেস’ নামের একটি সাবেক রেস্টুরেন্টের মালিক ছিলেন, যা ম্যানচেস্টারের বিখ্যাত ‘কারি মাইল’ এলাকার কাছে অবস্থিত।

 

তদন্তকারীরা অন্তত দুই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওই নারীরা দাবি করেছেন, তারা অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকা অবস্থায় রুখসার আহমেদ তাদের ধর্ষণ ও পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

 

অভিযোগগুলো ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকের, যখন রুখসার আহমেদের বয়স ছিল ২০ বছর। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলমান এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাকে আবারও পুলিশের কাছে হাজির হতে হতে পারে।

 

তিনি হাজির না হলে গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারে। এমনকি যুক্তরাজ্য থেকে তাকে ফেরত আনার জন্য প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে, যা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক জটিলতা তৈরি করতে পারে।

 

পিএমএল-এনের আজাদ কাশ্মীর শাখার এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, তিনি রুখসার আহমেদকে দুই দশকের বেশি সময় ধরে চেনেন। তবে তার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে তিনি আগে কিছু জানতেন না।

 

তিনি বলেন, “আমরা শুধু শুনেছি, ১৯৯০-এর দশকে ম্যানচেস্টারে তিনি কিছু গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে এত গুরুতর অভিযোগ রয়েছে—এ বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে আমার জানা ছিল না।”

 

রুখসার আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

 

এদিকে, এই ঘটনা সামনে এসেছে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাজ্য থেকে সাজাপ্রাপ্ত এক পাকিস্তানি নাগরিককে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে টানাপোড়েন চলছে। রচডেল গ্রুমিং গ্যাংয়ের সাবেক নেতা শাবির আহমেদ ৩০টি শিশু ধর্ষণের অপরাধে ২২ বছরের সাজা পেয়েছিলেন। ১৪ বছর কারাভোগের পর চলতি বছরের জুলাইয়ে তিনি মুক্তি পান।

 

ম্যানচেস্টারের পাকিস্তানি কমিউনিটিতে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে রুখসার আহমেদের প্রভাব রয়েছে বলে জানিয়েছে গার্ডিয়ান। তার কয়েকজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি তাকে “অত্যন্ত প্রভাবশালী” ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

 

তবে ম্যানচেস্টারে তার মালিকানাধীন গুজ্জর প্যালেস রেস্টুরেন্টটি বর্তমানে বন্ধ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, এটি ২০০৯ সালের পর থেকেই কার্যত বন্ধ। প্রতিষ্ঠানটির মালিকানাধীন কোম্পানির একমাত্র পরিচালক রুখসার আহমেদ। চলতি বছর হিসাব জমা না দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতেও পড়েছিল।

##

ট্যাগ:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে
Avatar

জনপ্রিয় পোস্ট

অসহায় মানুষের ভরসাস্থল গাজীপুরের ডিসি: মানবিক বাংলাদেশ গড়ার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

যুক্তরাজ্যে তদন্তাধীন, পাকিস্তানে জনপ্রতিনিধি হলেন রুখসার আহমেদ

আপডেট টাইম : ০৩:২৮:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

 

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ১৯৯০-এর দশকে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের ধর্ষণ ও পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া পাকিস্তানের সাবেক এক রাজ্য মন্ত্রী রুখসার আহমেদ আবারও দেশটির রাজনীতিতে ফিরেছেন। যুক্তরাজ্যে পুলিশের জামিনে থাকা অবস্থায় গত সপ্তাহে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের আইনসভা নির্বাচনে তিনি এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।

 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ৬২ বছর বয়সী রুখসার আহমেদকে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ম্যানচেস্টার বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ১৯৯০-এর দশকে ম্যানচেস্টারের রুশোলম এলাকায় শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রের (কেয়ার হোম) কয়েকজন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে যৌন নির্যাতন ও পাচারের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যে পুলিশি জামিনে রয়েছেন। গত মাসে তাকে ম্যানচেস্টারের একটি থানায় হাজির হয়ে জামিনের শর্ত পূরণ করার কথা থাকলেও তিনি উপস্থিত হননি। তার পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি অসুস্থ থাকায় বিমানে ভ্রমণ করতে পারেননি।

 

তবে একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে তাকে পাকিস্তানের মিরপুর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে দেখা গেছে।

 

রুখসার আহমেদ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)-এর প্রার্থী হিসেবে আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে তিনি ২০০৬ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে রাজ্য সরকারের মন্ত্রী ছিলেন।

 

পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে গার্ডিয়ান জানিয়েছে, গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ (জিএমপি) ২০২৪ সালে তার জামিনের শর্ত হিসেবে বিদেশ ভ্রমণে কড়াকড়ি আরোপ করতে চেয়েছিল। তবে আদালত সে সময় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের অনুমতি দেয়নি।

 

অভিযোগের তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, রুখসার আহমেদ দীর্ঘদিন ম্যানচেস্টারের রুশোলম এলাকায় বসবাস করেছেন। ওই এলাকায় তার ব্যবসায়িক পরিচিতিও রয়েছে। তিনি ‘গুজ্জর প্যালেস’ নামের একটি সাবেক রেস্টুরেন্টের মালিক ছিলেন, যা ম্যানচেস্টারের বিখ্যাত ‘কারি মাইল’ এলাকার কাছে অবস্থিত।

 

তদন্তকারীরা অন্তত দুই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওই নারীরা দাবি করেছেন, তারা অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকা অবস্থায় রুখসার আহমেদ তাদের ধর্ষণ ও পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

 

অভিযোগগুলো ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকের, যখন রুখসার আহমেদের বয়স ছিল ২০ বছর। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলমান এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাকে আবারও পুলিশের কাছে হাজির হতে হতে পারে।

 

তিনি হাজির না হলে গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারে। এমনকি যুক্তরাজ্য থেকে তাকে ফেরত আনার জন্য প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে, যা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক জটিলতা তৈরি করতে পারে।

 

পিএমএল-এনের আজাদ কাশ্মীর শাখার এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, তিনি রুখসার আহমেদকে দুই দশকের বেশি সময় ধরে চেনেন। তবে তার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে তিনি আগে কিছু জানতেন না।

 

তিনি বলেন, “আমরা শুধু শুনেছি, ১৯৯০-এর দশকে ম্যানচেস্টারে তিনি কিছু গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে এত গুরুতর অভিযোগ রয়েছে—এ বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে আমার জানা ছিল না।”

 

রুখসার আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

 

এদিকে, এই ঘটনা সামনে এসেছে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাজ্য থেকে সাজাপ্রাপ্ত এক পাকিস্তানি নাগরিককে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে টানাপোড়েন চলছে। রচডেল গ্রুমিং গ্যাংয়ের সাবেক নেতা শাবির আহমেদ ৩০টি শিশু ধর্ষণের অপরাধে ২২ বছরের সাজা পেয়েছিলেন। ১৪ বছর কারাভোগের পর চলতি বছরের জুলাইয়ে তিনি মুক্তি পান।

 

ম্যানচেস্টারের পাকিস্তানি কমিউনিটিতে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে রুখসার আহমেদের প্রভাব রয়েছে বলে জানিয়েছে গার্ডিয়ান। তার কয়েকজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি তাকে “অত্যন্ত প্রভাবশালী” ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

 

তবে ম্যানচেস্টারে তার মালিকানাধীন গুজ্জর প্যালেস রেস্টুরেন্টটি বর্তমানে বন্ধ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, এটি ২০০৯ সালের পর থেকেই কার্যত বন্ধ। প্রতিষ্ঠানটির মালিকানাধীন কোম্পানির একমাত্র পরিচালক রুখসার আহমেদ। চলতি বছর হিসাব জমা না দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতেও পড়েছিল।

##