ঢাকা , শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তিন মাসের প্রশিক্ষণে দক্ষতা অর্জন, এবার আয়ের সুযোগ ১০০ নারীর প্রতি শুক্রবার আইসিসিবিতে গাড়িপ্রেমীদের মিলনমেলা শহীদ জিয়ার ৭ নভেম্বর থেকে তারেক রহমানের ’২৪-এর আন্দোলন সরকারি দাপ্তরিক খরচ কমলে শ্রমিকদের ৩০-৪০ হাজার টাকা বেতন দেওয়া সম্ভব: মাসুদুজ্জামান মাসুদ নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতায় শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিরে তাগিদ স্লোগান নিয়ে বিতর্কে ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালককে প্রত্যাহার হামের টিকা সংকটে ইউনূস সরকারের ভূমিকা তদন্তে তিন সদস্যের কমিশন রিফাইনারির অনুমোদন নেই, বিপিসির কাছে ১২ লাখ টন ক্রুড চায় সুপার পেট্রোকেমিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্নমত দমনের অভিযোগ, বাংলাদেশের প্রতি এইচআরডব্লিউর সতর্কবার্তা বর্ণাঢ্য আয়োজনের সমাপ্ত হলো ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’ ফুটবল টুর্নামেন্ট

চানখারপুলে ৬ হত্যা মামলার রায় পিছিয়ে ২৬ জানুয়ারি

  • Avatar Md. Hossain BD
  • আপডেট টাইম : ১১:৩৮:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪৫ টাইম ভিউ

নিজস্ব প্রতিবেদক

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় রায় ঘোষণার নতুন এ দিন ধার্য করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। অন্য দুই সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এদিন এ মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। গত ২৪ ডিসেম্বর আজকের দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল-১। তবে রায় প্রস্তুত না হওয়ায় তারিখ পেছানো হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

এ মামলায় মোট আসামি আটজন। এর মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন চারজন। বাকিরা পলাতক। গ্রেপ্তাররা হলেন– শাহবাগ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ‍ও মো. নাসিরুল ইসলাম। আজ সকালে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করেছে পুলিশ।

পলাতক চার আসামি হলেন– ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম ও রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট সাক্ষ্য দিয়েছেন ২৬ জন। মোট ২৩ কার্যদিবসে তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন ট্রাইব্যুনাল। সাফাই সাক্ষ্য হিসেবে আরশাদসহ আরও তিনজনের জবানবন্দি নেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় যুক্তিতর্ক।

জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও এ মামলায় জবানবন্দি দিয়েছেন। ট্রাইব্যুনালের সাক্ষীর ডায়াসে দাঁড়িয়ে আসামিদের শাস্তি চেয়েছেন তিনি।

গত বছরের ১১ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন শহীদ আনাসের বাবা সাহরিয়ার খান পলাশ। পর্যায়ক্রমে শহীদ শেখ মাহদী হাসান জুনায়েদের বাবা শেখ জামাল হাসান, আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি, প্রত্যক্ষদর্শী রাব্বি হোসেন, ব্যবসায়ী আবদুল গফুর, রাজধানীর নিউমার্কেটের দোকানের কর্মচারী মো. টিপু সুলতান, নৌবাহিনীতে মালামাল সরবরাহকারী মো. মনিরুজ্জামান, শহীদ রাকিব হোসেন হাওলাদারের বাবা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, বড় ভাই রাহাত হাওলাদার, শহীদ ইয়াকুবের মা রহিমা আক্তার, তার প্রতিবেশী চাচা শহীদ আহমেদ ও শহীদ মো. ইসমামুল হকের ভাই মহিবুল হকও সাক্ষ্য দিয়েছেন ট্রাইব্যুনালে এসে। তারা সবাই হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন।

যুক্তিতর্কে সব আসামির সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছে প্রসিকিউশন। তবে প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে নিজের মক্কেলদের বেকসুর খালাস চেয়েছে আসামিপক্ষ। এ মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামি নিজেদের খরচে আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছেন। পলাতক থাকায় হাবিবুরসহ চারজনের হয়ে লড়ছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখারপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে গুলি চালায় পুলিশ। এতে বহু হতাহতের ঘটনার পাশাপাশি শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন।

ট্যাগ:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে
Avatar

Md. Hossain BD

জনপ্রিয় পোস্ট

তিন মাসের প্রশিক্ষণে দক্ষতা অর্জন, এবার আয়ের সুযোগ ১০০ নারীর

চানখারপুলে ৬ হত্যা মামলার রায় পিছিয়ে ২৬ জানুয়ারি

আপডেট টাইম : ১১:৩৮:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় রায় ঘোষণার নতুন এ দিন ধার্য করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। অন্য দুই সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এদিন এ মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। গত ২৪ ডিসেম্বর আজকের দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল-১। তবে রায় প্রস্তুত না হওয়ায় তারিখ পেছানো হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

এ মামলায় মোট আসামি আটজন। এর মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন চারজন। বাকিরা পলাতক। গ্রেপ্তাররা হলেন– শাহবাগ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ‍ও মো. নাসিরুল ইসলাম। আজ সকালে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করেছে পুলিশ।

পলাতক চার আসামি হলেন– ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম ও রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট সাক্ষ্য দিয়েছেন ২৬ জন। মোট ২৩ কার্যদিবসে তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন ট্রাইব্যুনাল। সাফাই সাক্ষ্য হিসেবে আরশাদসহ আরও তিনজনের জবানবন্দি নেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় যুক্তিতর্ক।

জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও এ মামলায় জবানবন্দি দিয়েছেন। ট্রাইব্যুনালের সাক্ষীর ডায়াসে দাঁড়িয়ে আসামিদের শাস্তি চেয়েছেন তিনি।

গত বছরের ১১ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন শহীদ আনাসের বাবা সাহরিয়ার খান পলাশ। পর্যায়ক্রমে শহীদ শেখ মাহদী হাসান জুনায়েদের বাবা শেখ জামাল হাসান, আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি, প্রত্যক্ষদর্শী রাব্বি হোসেন, ব্যবসায়ী আবদুল গফুর, রাজধানীর নিউমার্কেটের দোকানের কর্মচারী মো. টিপু সুলতান, নৌবাহিনীতে মালামাল সরবরাহকারী মো. মনিরুজ্জামান, শহীদ রাকিব হোসেন হাওলাদারের বাবা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, বড় ভাই রাহাত হাওলাদার, শহীদ ইয়াকুবের মা রহিমা আক্তার, তার প্রতিবেশী চাচা শহীদ আহমেদ ও শহীদ মো. ইসমামুল হকের ভাই মহিবুল হকও সাক্ষ্য দিয়েছেন ট্রাইব্যুনালে এসে। তারা সবাই হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন।

যুক্তিতর্কে সব আসামির সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছে প্রসিকিউশন। তবে প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে নিজের মক্কেলদের বেকসুর খালাস চেয়েছে আসামিপক্ষ। এ মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামি নিজেদের খরচে আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছেন। পলাতক থাকায় হাবিবুরসহ চারজনের হয়ে লড়ছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখারপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে গুলি চালায় পুলিশ। এতে বহু হতাহতের ঘটনার পাশাপাশি শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন।