ঢাকা , বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ছয় শিশুর মৃত্যুর বিচার হয়, ছয়শ শিশুর ঘাতকরা শাস্তি পায় না! আবাসন খাতে চরম মন্দা: অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বিশেষ প্রণোদনার তাগিদ পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ: গ্রামীণ বাংলাদেশের ভাগ্যবদল করছেন তারেক রহমান বাজেট ২০২৬-২৭: চ্যালেঞ্জ উত্তরণে ত্রিমুখী কৌশলের বিকল্প নেই ইউনূস সরকারের রেখে যাওয়া ‘অবসাদ’ ও আমলাতান্ত্রিক দেওয়াল: বাজেট বাস্তবায়নে মূল বাধা ভার্চুয়াল জগৎ যখন অপরাধের ফাঁদ: কিশোর গ্যাংয়ের নেপথ্যে স্মার্টফোন ইউনূসের কালো আইনে অর্থনীতির সর্বনাশ তরুণদের খেলাধুলায় ফেরাতে গাংনীতে বসুন্ধরা শুভসংঘের তিন মাসব্যাপী ফুটবল বিতরণ কর্মসূচি বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির বাস্কেটবল কোর্ট পরিদর্শনে ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা মুগদায় বসুন্ধরা শুভসংঘের মাদকবিরোধী আলোচনা ও শপথ

হেফাজতে ইসলামের মে ৩ মহাসমাবেশ: রাষ্ট্রের নীরবতা বাংলাদেশের কফিনে শেষ পেরেক!

  • Avatar
  • আপডেট টাইম : ০৬:২২:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ মে ২০২৫
  • ৪৭৯ টাইম ভিউ

সুমিয়া সিমু- যুক্তরাজ্য

৩ মে ২০২৫, সুহরাওয়ার্দী উদ্যান। হাজার হাজার হেফাজত অনুসারীর স্লোগানে ঢাকা কেঁপে উঠেছিল। কিন্তু এটি কোনো ধর্মীয় আয়োজন নয়- এটি ছিল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে ঘোষিত যুদ্ধ।

এই মহাসমাবেশের মঞ্চ থেকে যে বিষ উগরে দেওয়া হয়েছে, তা কেবল সংখ্যালঘুদের নয়, পুরো বাংলাদেশের জন্য হুমকি। নারীকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক বানানোর আহ্বান, মুক্তচিন্তার বিরুদ্ধে হুমকি, এবং “শুধু ইসলামই রাষ্ট্রের আইন” – এ যেন বাংলাদেশের উপর খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া।
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো রাষ্ট্রের লজ্জাজনক নীরবতা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল, কিন্তু তাদের চোখে মুখে ভয় এবং আত্মসমর্পণ। এ যেন সরকারের নীরব সমর্থন – অথবা কৌশলগত মিত্রতা।

আমাদের ইতিহাস প্রমাণ করেছে, যখন উগ্রবাদীরা রাস্তা দখল করে এবং রাষ্ট্র নীরব থাকে, তখনই রক্ত ঝরে। ২০১৩ সালে যেমন ঘটেছিল, আজও সেই অশুভ ছায়া ফিরে এসেছে। হেফাজতের মে ৩ মহাসমাবেশ একটি সতর্কবার্তা নয়, এটি বাংলাদেশের কফিনে শেষ পেরেক।
আজ যদি আমরা চুপ থাকি, কাল হয়তো এই সমাবেশের মঞ্চ থেকেই ঘোষণা হবে – বাংলাদেশ এখন তালেবান রাষ্ট্র।
বাংলাদেশের মানুষকে বেছে নিতে হবে – আমরা কি মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের রক্তের উপর দাঁড়ানো ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র চাই, নাকি হেফাজতের উগ্রপন্থার দাসত্বে মাথা নত করব?

ট্যাগ:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে
Avatar

জনপ্রিয় পোস্ট

ছয় শিশুর মৃত্যুর বিচার হয়, ছয়শ শিশুর ঘাতকরা শাস্তি পায় না!

হেফাজতে ইসলামের মে ৩ মহাসমাবেশ: রাষ্ট্রের নীরবতা বাংলাদেশের কফিনে শেষ পেরেক!

আপডেট টাইম : ০৬:২২:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ মে ২০২৫

সুমিয়া সিমু- যুক্তরাজ্য

৩ মে ২০২৫, সুহরাওয়ার্দী উদ্যান। হাজার হাজার হেফাজত অনুসারীর স্লোগানে ঢাকা কেঁপে উঠেছিল। কিন্তু এটি কোনো ধর্মীয় আয়োজন নয়- এটি ছিল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে ঘোষিত যুদ্ধ।

এই মহাসমাবেশের মঞ্চ থেকে যে বিষ উগরে দেওয়া হয়েছে, তা কেবল সংখ্যালঘুদের নয়, পুরো বাংলাদেশের জন্য হুমকি। নারীকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক বানানোর আহ্বান, মুক্তচিন্তার বিরুদ্ধে হুমকি, এবং “শুধু ইসলামই রাষ্ট্রের আইন” – এ যেন বাংলাদেশের উপর খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া।
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো রাষ্ট্রের লজ্জাজনক নীরবতা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল, কিন্তু তাদের চোখে মুখে ভয় এবং আত্মসমর্পণ। এ যেন সরকারের নীরব সমর্থন – অথবা কৌশলগত মিত্রতা।

আমাদের ইতিহাস প্রমাণ করেছে, যখন উগ্রবাদীরা রাস্তা দখল করে এবং রাষ্ট্র নীরব থাকে, তখনই রক্ত ঝরে। ২০১৩ সালে যেমন ঘটেছিল, আজও সেই অশুভ ছায়া ফিরে এসেছে। হেফাজতের মে ৩ মহাসমাবেশ একটি সতর্কবার্তা নয়, এটি বাংলাদেশের কফিনে শেষ পেরেক।
আজ যদি আমরা চুপ থাকি, কাল হয়তো এই সমাবেশের মঞ্চ থেকেই ঘোষণা হবে – বাংলাদেশ এখন তালেবান রাষ্ট্র।
বাংলাদেশের মানুষকে বেছে নিতে হবে – আমরা কি মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের রক্তের উপর দাঁড়ানো ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র চাই, নাকি হেফাজতের উগ্রপন্থার দাসত্বে মাথা নত করব?