ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নতুন বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার প্রস্তুতি, নিউইয়র্কে তারেক রহমান অভাব পেরিয়ে স্বাবলম্বিতার পথে বান্দরবানের ১০০ নারী কমব্যাট স্পোর্টসের বিশ্বমানচিত্রে বাংলাদেশ: নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলো ‘জেডএফসি জুলকান ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশীপ: শুরু হচ্ছে ZFC 2: Pride of Bangladesh জ্বালানি খাতের সাবেক কর্তাদের নতুন ঠিকানা এজাজের প্রতিষ্ঠান আইসিসিবির সুবিশাল পরিসরের ট্যুরিজম ফেয়ারে মিলবে পর্যটনের হাতছানি ছয় আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীর স্থানীয় প্রতিনিধিত্ব একই বলয়ে *বিদ্যুতের পুঞ্জীভূত সংকটে শুধু মন্ত্রীকে দোষারোপ কতটা যৌক্তিক?* রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র: ব্যক্তিস্বার্থ নাকি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা? ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের

মতলবে আলোচিত বালুখেকো কাজী মতিন গ্রেপ্তার: এলাকাবাসীর স্বস্তি, আনন্দ মিছিল

  • Avatar
  • আপডেট টাইম : ১১:১১:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪
  • ২০৫ টাইম ভিউ

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ  চাঁদপুরের মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী চক্রের অন্যতম হোতা, মতলবের আলোচিত কাজী মতিন (৪০) কে গ্রেপ্তার করেছে চাঁদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

সোমবার (৩০ ডিসেম্বর ২০২৪) বিকেলে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যান ঘাট মসজিদের সামনে থেকে এসআই (উপ-পরিদর্শক) জুয়েল রেজার নেতৃত্বে একটি ডিবি টিম অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোরশেদুল আলমের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

**কে এই কাজী মতিন?**
কাজী মতিন মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের কাজী আবুল হোসেনের ছেলে। তার বড় ভাই কাজী মিজানুর রহমান মোহনপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। জানা গেছে, কাজী মিজানুরের বিরুদ্ধে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে।

কাজী মতিন ও তার বড় ভাই দীর্ঘদিন ধরে চাঁদপুরের বিভিন্ন স্থানে মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতেন। কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশ একাধিকবার নদী থেকে অবৈধ ড্রেজার ও শ্রমিক আটক করলেও, মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতেন। আটক শ্রমিকদের ছাড়িয়ে নিতে কাজী মতিন নৌ থানা ও অন্যান্য প্রশাসনিক দপ্তরে তদবির করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

**জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া**
কাজী মতিন গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে মতলবের বিভিন্ন এলাকায় স্বস্তি নেমে আসে। আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করে সাধারণ মানুষ। এলাকাবাসী জানান, কাজী মতিন দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের জমি ও নদীর পাড় দখল করে বালু উত্তোলন করছিলেন।

এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, “কাজী মতিন ছিল সব অপকর্মের মাস্টারমাইন্ড। তাকে গ্রেপ্তার করায় আমরা অনেকটা মুক্তি পেয়েছি।”

**রাজনৈতিক তৎপরতা ও চাপ**
এদিকে, কাজী মতিনকে ছাড়িয়ে নিতে জেলা বিএনপির এক সিনিয়র নেতা তৎপরতা চালিয়েছেন বলে জানা গেছে। এমনকি সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের উপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করা হয়েছে।

তবে, চাঁদপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

**এলাকাবাসীর প্রত্যাশা**
এলাকাবাসী আশা করছেন, কাজী মতিনের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে চাঁদপুরের মেঘনা নদী অবৈধ বালু উত্তোলন চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নদী সুরক্ষিত থাকবে।

ট্যাগ:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে
Avatar

জনপ্রিয় পোস্ট

নতুন বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার প্রস্তুতি, নিউইয়র্কে তারেক রহমান

মতলবে আলোচিত বালুখেকো কাজী মতিন গ্রেপ্তার: এলাকাবাসীর স্বস্তি, আনন্দ মিছিল

আপডেট টাইম : ১১:১১:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ  চাঁদপুরের মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী চক্রের অন্যতম হোতা, মতলবের আলোচিত কাজী মতিন (৪০) কে গ্রেপ্তার করেছে চাঁদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

সোমবার (৩০ ডিসেম্বর ২০২৪) বিকেলে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যান ঘাট মসজিদের সামনে থেকে এসআই (উপ-পরিদর্শক) জুয়েল রেজার নেতৃত্বে একটি ডিবি টিম অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোরশেদুল আলমের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

**কে এই কাজী মতিন?**
কাজী মতিন মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের কাজী আবুল হোসেনের ছেলে। তার বড় ভাই কাজী মিজানুর রহমান মোহনপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। জানা গেছে, কাজী মিজানুরের বিরুদ্ধে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে।

কাজী মতিন ও তার বড় ভাই দীর্ঘদিন ধরে চাঁদপুরের বিভিন্ন স্থানে মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতেন। কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশ একাধিকবার নদী থেকে অবৈধ ড্রেজার ও শ্রমিক আটক করলেও, মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতেন। আটক শ্রমিকদের ছাড়িয়ে নিতে কাজী মতিন নৌ থানা ও অন্যান্য প্রশাসনিক দপ্তরে তদবির করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

**জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া**
কাজী মতিন গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে মতলবের বিভিন্ন এলাকায় স্বস্তি নেমে আসে। আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করে সাধারণ মানুষ। এলাকাবাসী জানান, কাজী মতিন দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের জমি ও নদীর পাড় দখল করে বালু উত্তোলন করছিলেন।

এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, “কাজী মতিন ছিল সব অপকর্মের মাস্টারমাইন্ড। তাকে গ্রেপ্তার করায় আমরা অনেকটা মুক্তি পেয়েছি।”

**রাজনৈতিক তৎপরতা ও চাপ**
এদিকে, কাজী মতিনকে ছাড়িয়ে নিতে জেলা বিএনপির এক সিনিয়র নেতা তৎপরতা চালিয়েছেন বলে জানা গেছে। এমনকি সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের উপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করা হয়েছে।

তবে, চাঁদপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

**এলাকাবাসীর প্রত্যাশা**
এলাকাবাসী আশা করছেন, কাজী মতিনের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে চাঁদপুরের মেঘনা নদী অবৈধ বালু উত্তোলন চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নদী সুরক্ষিত থাকবে।