
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ২১ নাগরিককে একুশে পদক ২০২৪ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তার মধ্যে সমাজসেবায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য একুশে পদক পেয়েছেন ‘বেচি দই, কিনি বই’ খ্যাত সাদা মনের মানুষ জিয়াউল হক।
গত মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে জিয়াউল হকের একুশে পদক পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
জিয়াউল হকের বাবার নাম মরহুম তৈয়ব আলী মোল্লা এবং মায়ের নাম শরীফুন নেছা। তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলার ৩ নম্বর দলদলী ইউনিয়নের চামা মুশরিভুজা গ্রামে। প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর বর্তমানে তিনি বটতলা গ্রামে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করছেন। লেখাপড়া করেছেন ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নেন তিনি। এরপর ১৯৬৯ সাল থেকে তিল তিল করে গড়ে তোলেন তার পারিবারিক লাইব্রেরি। পাশাপাশি নিজে দরিদ্র্যতার সঙ্গে আজীবন লড়াই করে নিরবচ্ছিন্নভাবে সমাজসেবা করে যাচ্ছেন।
সৎ মানুষ ও ভালো দই ব্যবসায়ী সর্বোপরি একজন অতি উৎকৃষ্টমানের দই প্রস্তুতকারক হিসেবে তার নাম যেমন জেলা থেকে ছাড়িয়ে সারাদেশ। সমাজসেবক হিসেবে তিনি প্রথমত অভাবগ্রস্ত মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যবই দিয়ে বছর শেষে আবার ফেরত নিয়ে আসতেন। পরে তিনি স্থানীয় হাফেজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানায় পাঠ্যবই, পবিত্র কোরআন মাজিদ ও এতিমদের পোশাক দেওয়া অব্যাহত রাখেন। বর্তমানে তিনি ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ডিগ্রি পর্যন্ত বিজ্ঞান, কলা ও বাণিজ্য বিভাগে অনেক ছাত্রছাত্রীকে বিনামূল্যে পাঠ্যবই দিয়ে আসছেন। জেলা ছাড়া রাজশাহীর বিভিন্ন কলেজের ছাত্রছাত্রীদেরও বই দেন তিনি। যেসব ছাত্রছাত্রী দূরদূরান্ত থেকে বই নিতে আসেন, তাদের যাতায়াত খরচও দিয়ে থাকেন জিয়াউল হক। ঈদে গরিব-দুঃখীর মধ্যে কাপড় বিতরণ এবং প্রচণ্ড শীতে দরিদ্রদের মধ্যে শীতবস্ত্রও বিতরণ করেন।
একুশে পদকপ্রাপ্ত জিয়াউল হক বলেন, আমি কখনো ভাবতে পারিনি জিয়াউল হক পাঠাগারের জন্য আমাকে একুশে পদক দেওয়া হবে। তাই সমাজসেবায় একুশে পদক দেওয়ায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত। যে কয়দিন বেঁচে আছি আমি এর (পাঠাগার) দেখভাল করব। আমি মারা গেলে আমার ছেলে এই পাঠাগারের দেখভাল করবে।
তার ছেলে মহব্বত আলী বলেন, সমাজসেবা ক্যাটাগরিতে ২০২৪ সালে একুশে পদকে আমার বাবাকে মনোনীত করার জন্য আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমি অত্যন্ত খুশি কারণ আমার বাবা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মাননায় মনোনীত হওয়ায়। আমি আমার বাবার অবর্তমানে এই পাঠাগারের হাল ধরব এবং সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব।
দলদলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজ্জামেল হক বলেন, জিয়াউল হক সারাজীবন সমাজের প্রতি যে কাজ করে গেছে, তার জন্য আমি গর্বিত, আমার ইউনিয়ন গর্বিত, আমরা ভোলাহাটবাসী গর্বিত। একুশে পদকের জন্য যারা ওনাকে সিলেক্ট করেছেন তাদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।


















