ঢাকা , সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাজেট ২০২৬-২৭: চ্যালেঞ্জ উত্তরণে ত্রিমুখী কৌশলের বিকল্প নেই ইউনূস সরকারের রেখে যাওয়া ‘অবসাদ’ ও আমলাতান্ত্রিক দেওয়াল: বাজেট বাস্তবায়নে মূল বাধা ভার্চুয়াল জগৎ যখন অপরাধের ফাঁদ: কিশোর গ্যাংয়ের নেপথ্যে স্মার্টফোন ইউনূসের কালো আইনে অর্থনীতির সর্বনাশ তরুণদের খেলাধুলায় ফেরাতে গাংনীতে বসুন্ধরা শুভসংঘের তিন মাসব্যাপী ফুটবল বিতরণ কর্মসূচি বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির বাস্কেটবল কোর্ট পরিদর্শনে ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা মুগদায় বসুন্ধরা শুভসংঘের মাদকবিরোধী আলোচনা ও শপথ ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি: মৌলভীবাজারে গরিব, দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে বসুন্ধরা শুভসংঘ এক-এগারোর মূল পরিকল্পনাকারী মইন ও দুই সম্পাদক এক-এগারোয় খালেদা জিয়া পরিবার গ্রেপ্তির নেপথ্যে মতি-মাহফুজের চাপ: রিমান্ডে মাসুদ

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে সেমাই-চানাচুর

  • Avatar
  • আপডেট টাইম : ১০:৫৮:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ মে ২০২৫
  • ৫১২ টাইম ভিউ

গৌরনদীর খাদ্যকারখানায় শিশুশ্রম

গৌরনদী(বরিশাল)প্রতিনিধি:

আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় জমজমাট হয়ে উঠেছে লাচ্ছা সেমাই ও চানাচুর উৎপাদন। কিন্তু উৎসবমুখর এই সময়ে জনসাধারণের চাহিদাকে পুঁজি করে একাধিক খাদ্যপ্রক্রিয়াজাত কারখানায় চলছে অস্বাস্থ্যকর ও নিয়ম বহির্ভূত উৎপাদন কার্যক্রম। জনস্বাস্থ্য আজ প্রশ্নবিদ্ধ, আর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্লিপ্ততায় উদ্বিগ্ন সচেতন মহল।
গৌরনদী উপজেলার সুন্দরদী গ্রামে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বেবি ফুড প্রডাক্টস নামে একটি কারখানায় লাচ্ছা সেমাই ও চানাচুর তৈরির কাজে ব্যস্ত কয়েকজন শ্রমিক। কিন্তু পরিবেশ যেন কোনোভাবেই খাদ্যপণ্য তৈরির জন্য উপযুক্ত নয়। মেঝেতে পড়ে থাকা কাঁচামালের উপর ধুলাবালি জমে আছে, মাছির উপদ্রব সর্বত্র। নেই কোনো স্যানিটেশন ব্যবস্থা, নেই কর্মীদের স্বাস্থ্যগত সুরক্ষা। সবমিলিয়ে এক ভয়াবহ স্বাস্থ্য ঝুঁকির ছবি চোখে পড়ে। এ কারখানায় কাজ করছে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর সাব্বির, যাকে দেখা যায় গরম তেলে চানাচুর ভাজতে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মী জানান, এখানে নিয়মিতভাবে শিশুদের দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে শ্রম করানো হয়, তাও নামমাত্র মজুরিতে। এই অবস্থা শ্রম আইন ও আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সনদের সরাসরি লঙ্ঘন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চানাচুর তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের বাদাম, ঝুঁকিপূর্ণ রং এবং রাসায়নিক সংরক্ষণকারী। এসব উপাদান স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হলেও, পণ্যের মোড়কে উৎপাদন ও মেয়াদের তথ্য দেয়া হচ্ছে ইচ্ছেমতো—বিনা বৈজ্ঞানিক যাচাই-বাছাইয়ে। প্রতিষ্ঠানের নেই কোনো বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) অনুমোদন, তবুও বাজারে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে গৌরনদী ও আশপাশের বাজারে।
স্থানীয় একজন বাসিন্দা জানান, আগে কারখানার সেমাই-চানাচুর কিনতাম। কিন্তু এখন দেখে খেতে ভয় হয়। যেভাবে বানায়, তাতে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।
এ বিষয় জানতে চাইলে সাংবাদিকের সাথে চারাও হয়ে কারখানার মালিক কৃষ্ণ পালের ছেলে পলাশ পাল বলেন আপনি যা লেখার লিখতে পারেন প্রতি বছর দু-চারটা নিউজ হয়। ইউএনও থেকে শুরু করে থানার ওসিসহ বরিশালের সবাই জানে আমার কারখানার কথা।

ট্যাগ:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে
Avatar

জনপ্রিয় পোস্ট

বাজেট ২০২৬-২৭: চ্যালেঞ্জ উত্তরণে ত্রিমুখী কৌশলের বিকল্প নেই

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে সেমাই-চানাচুর

আপডেট টাইম : ১০:৫৮:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ মে ২০২৫

গৌরনদীর খাদ্যকারখানায় শিশুশ্রম

গৌরনদী(বরিশাল)প্রতিনিধি:

আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় জমজমাট হয়ে উঠেছে লাচ্ছা সেমাই ও চানাচুর উৎপাদন। কিন্তু উৎসবমুখর এই সময়ে জনসাধারণের চাহিদাকে পুঁজি করে একাধিক খাদ্যপ্রক্রিয়াজাত কারখানায় চলছে অস্বাস্থ্যকর ও নিয়ম বহির্ভূত উৎপাদন কার্যক্রম। জনস্বাস্থ্য আজ প্রশ্নবিদ্ধ, আর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্লিপ্ততায় উদ্বিগ্ন সচেতন মহল।
গৌরনদী উপজেলার সুন্দরদী গ্রামে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বেবি ফুড প্রডাক্টস নামে একটি কারখানায় লাচ্ছা সেমাই ও চানাচুর তৈরির কাজে ব্যস্ত কয়েকজন শ্রমিক। কিন্তু পরিবেশ যেন কোনোভাবেই খাদ্যপণ্য তৈরির জন্য উপযুক্ত নয়। মেঝেতে পড়ে থাকা কাঁচামালের উপর ধুলাবালি জমে আছে, মাছির উপদ্রব সর্বত্র। নেই কোনো স্যানিটেশন ব্যবস্থা, নেই কর্মীদের স্বাস্থ্যগত সুরক্ষা। সবমিলিয়ে এক ভয়াবহ স্বাস্থ্য ঝুঁকির ছবি চোখে পড়ে। এ কারখানায় কাজ করছে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর সাব্বির, যাকে দেখা যায় গরম তেলে চানাচুর ভাজতে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মী জানান, এখানে নিয়মিতভাবে শিশুদের দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে শ্রম করানো হয়, তাও নামমাত্র মজুরিতে। এই অবস্থা শ্রম আইন ও আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সনদের সরাসরি লঙ্ঘন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চানাচুর তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের বাদাম, ঝুঁকিপূর্ণ রং এবং রাসায়নিক সংরক্ষণকারী। এসব উপাদান স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হলেও, পণ্যের মোড়কে উৎপাদন ও মেয়াদের তথ্য দেয়া হচ্ছে ইচ্ছেমতো—বিনা বৈজ্ঞানিক যাচাই-বাছাইয়ে। প্রতিষ্ঠানের নেই কোনো বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) অনুমোদন, তবুও বাজারে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে গৌরনদী ও আশপাশের বাজারে।
স্থানীয় একজন বাসিন্দা জানান, আগে কারখানার সেমাই-চানাচুর কিনতাম। কিন্তু এখন দেখে খেতে ভয় হয়। যেভাবে বানায়, তাতে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।
এ বিষয় জানতে চাইলে সাংবাদিকের সাথে চারাও হয়ে কারখানার মালিক কৃষ্ণ পালের ছেলে পলাশ পাল বলেন আপনি যা লেখার লিখতে পারেন প্রতি বছর দু-চারটা নিউজ হয়। ইউএনও থেকে শুরু করে থানার ওসিসহ বরিশালের সবাই জানে আমার কারখানার কথা।