ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাভারে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা দোয়া ইয়াসিন মাহমুদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক আলামিন খন্দকারের সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা: সামাজিক মাধ্যমে মানহানির অভিযোগ ইয়াসিন মাহমুদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক তাহমিনা উদ্দিনের সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা: অপপ্রচার, ছবি বিকৃতি ও চাঁদা দাবির অভিযোগ ইয়াসিন মাহমুদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সাইবার অপরাধ মামলা: সাইবার ট্রাইব্যুনালে এনামুল হক আরিফের মামলা বাজিতপুরে পিস্তল গুলি দেশীয় অস্ত্রসহ ২২ জন গ্রেফতার টগি ফান ওয়ার্ল্ডে উদযাপিত হলো হ্যালোইন উৎসব সাভারে ছায়াবিথী এলাকায় ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রধান অতিথি লায়ন মোঃ খোরশেদ আলম বসুন্ধরার আই ব্লকে উদ্বোধন করা হলো ‘হেরিটেজ সুইটস’ এর ২য় শাখা সম্পাদক জাকির হোসেনের মায়ের চোখে অস্ত্রোপচার আজ — দেশবাসীর দোয়া প্রার্থনা বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে শেষ হলো স্কোয়াশ চ্যাম্পিয়নশীপ

চাহিদার চেয়ে জোগান বেশি, এরপরও বাড়ছে পেঁয়াজের দাম

  • Avatar
  • আপডেট টাইম : ০৫:৪১:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৩
  • ১০০ টাইম ভিউ

হুট করে ভারতের রপ্তানি বন্ধের খবরে দেশের বাজারে হু হু করে বাড়তে থাকে পেঁয়াজের দাম। যদিও ভারতের রপ্তানি বন্ধের পরে এখনো বাজারে পেঁয়াজের কোনো সংকট হয়নি। বরং গত কয়েকদিনে দেশি নতুন মুড়িকাটা ও গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের সরবরাহ বেশ ভালো। একই সঙ্গে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে পাতাসহ পেঁয়াজ। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যের কোনো সংকট থাকার কথা নয় এখন। অথচ কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে মাত্র দুদিনের মধ্যে পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দাম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এজন্য কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ব্যর্থতাকে দায়ী করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা ২৮ লাখ টন। অর্থাৎ প্রতি মাসে দরকার হয় গড়ে ২ লাখ ৩৩ হাজার টন। চলতি মৌসুমে দেশে মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে, যার উৎপাদন হবে প্রায় ৮ লাখ টন। এসব পেঁয়াজ এখন বাজারে আসতে শুরু করেছে। এখন থেকে ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাস পর্যন্ত ওই পেঁয়াজের মাধ্যমে জোগান ঠিক থাকার কথা।

এর বাইরে এ বছর দেশে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে, যেখানে উৎপাদন হবে প্রায় ৫০ হাজার টন। এছাড়া পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর ভারতের নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগে দেশটি থেকে ৫২ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির এলসি খোলা হয়। এসব পেঁয়াজও বাজারে আসছে। সরবরাহের সব খাত যোগ করলে এ সময় দেশে পেঁয়াজের সংকট থাকার কথা নয়।

সারা বছরের উৎপাদন ও জোগানের হিসাব করলেও পেঁয়াজ এখন উদ্বৃত্ত থাকার কথা। সরকারি হিসাবেই দেশে চাহিদার তুলনায় বেশি পেঁয়াজ উৎপন্ন হয়ে থাকে। প্রতিবছর মুড়িকাটা, গ্রীষ্মকালীন এবং মূল মৌসুম মিলিয়ে দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন ৩৪ লাখ টনের বেশি। যার মধ্যে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পেঁয়াজ সংগ্রহ থেকে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যায়। নষ্ট হয়ে যাওয়া পেঁয়াজের ঘাটতি পূরণে বাকিটা আমদানি করতে হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছরের (২০২৩ সালের) শেষ ১১ মাসে পেঁয়াজের আমদানি ৮ লাখ ৬৪ হাজার টন ছাড়িয়ে গেছে। এই হিসাব ধরলে এ বছর ৪ থেকে ৫ লাখ টন পেঁয়াজ উদ্বৃত্ত থাকার কথা।

দেশে দৈনিক পেঁয়াজের চাহিদা প্রায় ৮০ লাখ কেজি। যদি ধরা হয় প্রতি কেজিতে বর্তমানে ১২০ টাকা অতিরিক্ত মুনাফা করছেন ব্যবসায়ীরা। তাহলে বর্তমানে প্রতিদিন ভোক্তার পকেট থেকে শত কোটি টাকা বাড়তি মুনাফা করছেন পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা।

এমন পরিস্থিতিতে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কার্যত ভারতের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার অজুহাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন। এ যেন ভোক্তার অর্থ লুটের মচ্ছব। এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি করে ভোক্তার পকেট থেকে দৈনিক শত কোটি টাকারও বেশি লুট হয়ে যাচ্ছে।

ট্যাগ:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে
Avatar

জনপ্রিয় পোস্ট

সাভারে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা দোয়া

চাহিদার চেয়ে জোগান বেশি, এরপরও বাড়ছে পেঁয়াজের দাম

আপডেট টাইম : ০৫:৪১:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৩

হুট করে ভারতের রপ্তানি বন্ধের খবরে দেশের বাজারে হু হু করে বাড়তে থাকে পেঁয়াজের দাম। যদিও ভারতের রপ্তানি বন্ধের পরে এখনো বাজারে পেঁয়াজের কোনো সংকট হয়নি। বরং গত কয়েকদিনে দেশি নতুন মুড়িকাটা ও গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের সরবরাহ বেশ ভালো। একই সঙ্গে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে পাতাসহ পেঁয়াজ। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যের কোনো সংকট থাকার কথা নয় এখন। অথচ কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে মাত্র দুদিনের মধ্যে পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দাম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এজন্য কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ব্যর্থতাকে দায়ী করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা ২৮ লাখ টন। অর্থাৎ প্রতি মাসে দরকার হয় গড়ে ২ লাখ ৩৩ হাজার টন। চলতি মৌসুমে দেশে মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে, যার উৎপাদন হবে প্রায় ৮ লাখ টন। এসব পেঁয়াজ এখন বাজারে আসতে শুরু করেছে। এখন থেকে ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাস পর্যন্ত ওই পেঁয়াজের মাধ্যমে জোগান ঠিক থাকার কথা।

এর বাইরে এ বছর দেশে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে, যেখানে উৎপাদন হবে প্রায় ৫০ হাজার টন। এছাড়া পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর ভারতের নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগে দেশটি থেকে ৫২ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির এলসি খোলা হয়। এসব পেঁয়াজও বাজারে আসছে। সরবরাহের সব খাত যোগ করলে এ সময় দেশে পেঁয়াজের সংকট থাকার কথা নয়।

সারা বছরের উৎপাদন ও জোগানের হিসাব করলেও পেঁয়াজ এখন উদ্বৃত্ত থাকার কথা। সরকারি হিসাবেই দেশে চাহিদার তুলনায় বেশি পেঁয়াজ উৎপন্ন হয়ে থাকে। প্রতিবছর মুড়িকাটা, গ্রীষ্মকালীন এবং মূল মৌসুম মিলিয়ে দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন ৩৪ লাখ টনের বেশি। যার মধ্যে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পেঁয়াজ সংগ্রহ থেকে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যায়। নষ্ট হয়ে যাওয়া পেঁয়াজের ঘাটতি পূরণে বাকিটা আমদানি করতে হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছরের (২০২৩ সালের) শেষ ১১ মাসে পেঁয়াজের আমদানি ৮ লাখ ৬৪ হাজার টন ছাড়িয়ে গেছে। এই হিসাব ধরলে এ বছর ৪ থেকে ৫ লাখ টন পেঁয়াজ উদ্বৃত্ত থাকার কথা।

দেশে দৈনিক পেঁয়াজের চাহিদা প্রায় ৮০ লাখ কেজি। যদি ধরা হয় প্রতি কেজিতে বর্তমানে ১২০ টাকা অতিরিক্ত মুনাফা করছেন ব্যবসায়ীরা। তাহলে বর্তমানে প্রতিদিন ভোক্তার পকেট থেকে শত কোটি টাকা বাড়তি মুনাফা করছেন পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা।

এমন পরিস্থিতিতে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কার্যত ভারতের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার অজুহাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন। এ যেন ভোক্তার অর্থ লুটের মচ্ছব। এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি করে ভোক্তার পকেট থেকে দৈনিক শত কোটি টাকারও বেশি লুট হয়ে যাচ্ছে।