ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাভারে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা দোয়া ইয়াসিন মাহমুদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক আলামিন খন্দকারের সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা: সামাজিক মাধ্যমে মানহানির অভিযোগ ইয়াসিন মাহমুদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক তাহমিনা উদ্দিনের সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা: অপপ্রচার, ছবি বিকৃতি ও চাঁদা দাবির অভিযোগ ইয়াসিন মাহমুদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সাইবার অপরাধ মামলা: সাইবার ট্রাইব্যুনালে এনামুল হক আরিফের মামলা বাজিতপুরে পিস্তল গুলি দেশীয় অস্ত্রসহ ২২ জন গ্রেফতার টগি ফান ওয়ার্ল্ডে উদযাপিত হলো হ্যালোইন উৎসব সাভারে ছায়াবিথী এলাকায় ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রধান অতিথি লায়ন মোঃ খোরশেদ আলম বসুন্ধরার আই ব্লকে উদ্বোধন করা হলো ‘হেরিটেজ সুইটস’ এর ২য় শাখা সম্পাদক জাকির হোসেনের মায়ের চোখে অস্ত্রোপচার আজ — দেশবাসীর দোয়া প্রার্থনা বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে শেষ হলো স্কোয়াশ চ্যাম্পিয়নশীপ

মামলার বাদী পুলিশ: ৫ মাসে বিএনপির ২ হাজারের বেশি নেতাকর্মীর কারাদন্ড

  • Avatar
  • আপডেট টাইম : ০৪:৫০:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩
  • ৮৮ টাইম ভিউ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকার বিএনপি নেতা-কর্মীদের দমন-নিপীড়ন করতে দেশের সর্বচ্চ জায়গা আদালত ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। এরই ধারাবাহিকতায় কত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন মামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন পযার্য়ের নেতাদের সাজা দেওয়া হচ্ছে। আদালত সূত্রে জানা যানা যায়, চলতি বছরের ১৪ আগস্ট থেকে গত ৫ মাসে প্রায় ২ হাজারের বেশি বিএনপি নেতাকর্মীদের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।

অবশ্য এসব বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহামচিব রুহুল করিব রিজভী আহমেদ জানায়, সরকার বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে সরাসরি আদালতের অপব্যবহার করছে। এরমধ্যে গত বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) সরকারের নিজস্ব আদালতে এক দিনে ৬ মামলায় ১১৯ জন নেতা-কর্মীদের সাজা দেওয়া হয়েছে। যেটা সর্বোচ্চ বেআইনী। তিনি বলেন, সরকার ২৮ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে থেকে প্রায় ২২ হাজারে মতো নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে।

সূত্র জানায়, ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ দুই বছর ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডিত ১১৯ জনের মধ্যে আছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম, হাজারীবাগ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল আজিজ, বনানী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানসহ অনেকেই। যে ছয়টি মামলায় বুধবার রায় দেওয়া হয়েছে তারমধ্যে পাঁচটি মামলার বাদি পুলিশ এবং ২০১৮ সালে দায়ের করা, আর একটি মামলা ২০১৩ সালের। মামলাগুলোর মধ্যে দুইটি উত্তরখান থানায় আর বাকি চারটি মামলা ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী ও কামরাঙ্গিরচর থানার। ওইদিন হাজারিবাগ থানার আরেকটি মামলায় সবাইকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মামলাগুলোতে মূল অভিযোগ পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া, হামলা ও ভাঙচুর। বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচির সময়ে ওই ঘটনাগুলো ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়।

আদালত থেকে পাওয়া তথ্য মতে, গত ৫ মাসে ১১০ টি মামলায় প্রায় ২ হাজারের মতো বিএনপির নেতাকর্মী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন ধরণের শাস্তি দিয়েছে আদালত।

এসব বিষয়ে বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানিয়েছেন, যেসব মামলায় কারাদন্ড দেওয়া হচ্ছে সেসব মামলাগুলো হলো কথিত মামলা। এসব মামলার বাদী সরকারের পুলিশ বাহিনী। তারা পুলিশের কর্তব্য কাজে বাধা এবং নাশকতার কথা উল্লেখ্য করেছে। বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের মধ্যম পর্যায়ের নেতারাই বেশির ভাগ এইসব মামলার আসামি। তবে এসব মামলায় গত ৫ মাসে প্রায় ২ হাজারের মতো বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন ধরণের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ঢাকা মহানগন দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আবু জানিয়েছেন, কাউকে রাজনৈতিক ভাবে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না। যাদের বিরদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হচ্ছে তারাই শুধু দণ্ডিত হচ্ছেন। আইন মেনেই এসব বিচার ব্যবস্থার কার্যক্রম চলছে।

অবশ্য রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, আদালত যেটা করছেন সেটা আইন মেনেই করছেন। বুধবার মোট ছয়টি মামলায় বিএনপির ১১৯ জন নেতা-কর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়ে নতুন করে একটি চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই রায়গুলো দিয়েছেন।

ট্যাগ:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে
Avatar

জনপ্রিয় পোস্ট

সাভারে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা দোয়া

মামলার বাদী পুলিশ: ৫ মাসে বিএনপির ২ হাজারের বেশি নেতাকর্মীর কারাদন্ড

আপডেট টাইম : ০৪:৫০:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকার বিএনপি নেতা-কর্মীদের দমন-নিপীড়ন করতে দেশের সর্বচ্চ জায়গা আদালত ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। এরই ধারাবাহিকতায় কত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন মামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন পযার্য়ের নেতাদের সাজা দেওয়া হচ্ছে। আদালত সূত্রে জানা যানা যায়, চলতি বছরের ১৪ আগস্ট থেকে গত ৫ মাসে প্রায় ২ হাজারের বেশি বিএনপি নেতাকর্মীদের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।

অবশ্য এসব বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহামচিব রুহুল করিব রিজভী আহমেদ জানায়, সরকার বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে সরাসরি আদালতের অপব্যবহার করছে। এরমধ্যে গত বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) সরকারের নিজস্ব আদালতে এক দিনে ৬ মামলায় ১১৯ জন নেতা-কর্মীদের সাজা দেওয়া হয়েছে। যেটা সর্বোচ্চ বেআইনী। তিনি বলেন, সরকার ২৮ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে থেকে প্রায় ২২ হাজারে মতো নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে।

সূত্র জানায়, ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ দুই বছর ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডিত ১১৯ জনের মধ্যে আছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম, হাজারীবাগ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল আজিজ, বনানী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানসহ অনেকেই। যে ছয়টি মামলায় বুধবার রায় দেওয়া হয়েছে তারমধ্যে পাঁচটি মামলার বাদি পুলিশ এবং ২০১৮ সালে দায়ের করা, আর একটি মামলা ২০১৩ সালের। মামলাগুলোর মধ্যে দুইটি উত্তরখান থানায় আর বাকি চারটি মামলা ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী ও কামরাঙ্গিরচর থানার। ওইদিন হাজারিবাগ থানার আরেকটি মামলায় সবাইকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মামলাগুলোতে মূল অভিযোগ পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া, হামলা ও ভাঙচুর। বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচির সময়ে ওই ঘটনাগুলো ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়।

আদালত থেকে পাওয়া তথ্য মতে, গত ৫ মাসে ১১০ টি মামলায় প্রায় ২ হাজারের মতো বিএনপির নেতাকর্মী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন ধরণের শাস্তি দিয়েছে আদালত।

এসব বিষয়ে বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানিয়েছেন, যেসব মামলায় কারাদন্ড দেওয়া হচ্ছে সেসব মামলাগুলো হলো কথিত মামলা। এসব মামলার বাদী সরকারের পুলিশ বাহিনী। তারা পুলিশের কর্তব্য কাজে বাধা এবং নাশকতার কথা উল্লেখ্য করেছে। বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের মধ্যম পর্যায়ের নেতারাই বেশির ভাগ এইসব মামলার আসামি। তবে এসব মামলায় গত ৫ মাসে প্রায় ২ হাজারের মতো বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন ধরণের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ঢাকা মহানগন দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আবু জানিয়েছেন, কাউকে রাজনৈতিক ভাবে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না। যাদের বিরদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হচ্ছে তারাই শুধু দণ্ডিত হচ্ছেন। আইন মেনেই এসব বিচার ব্যবস্থার কার্যক্রম চলছে।

অবশ্য রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, আদালত যেটা করছেন সেটা আইন মেনেই করছেন। বুধবার মোট ছয়টি মামলায় বিএনপির ১১৯ জন নেতা-কর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়ে নতুন করে একটি চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই রায়গুলো দিয়েছেন।