
১৪ নভেম্বর দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভায় বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের। ওই সভায় দলের অধিকাংশ সদস্য মত দেন ক্ষমতাসীনদের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার পক্ষে। উপস্থিত নেতাদের সামনে সেদিন জিএম কাদের বলেন, নির্বাচনে যাওয়ার এখনো পরিবেশ তৈরি হয়নি। সুষ্ঠু পরিবেশ না হওয়ার আগে নির্বাচনে গেলে আমাদের ওপর স্যাংশনস আসার শঙ্কাও রয়েছে।
ওই সভায় জাপার চেয়ারম্যান আরও বলেন, প্রথমত এ অবস্থায় নির্বাচন করলে জাতীয় বেইমান বা দালাল হিসেবে বলা হবে।
১৪ নভেম্বররের পর কেটে গেছে প্রায় ১ মাস। এরমধ্যে সাক্ষাৎ মেলেনি জিএম কাদেরের। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের দামামা যখন বাজছে তখন যেন ‘শীতঘুমে’ জিএম কাদের। মনোনয়ন ফরম বিক্রির উদ্বোধন বা প্রার্থী ঘোষণার দিন উপস্থিত ছিলেন না জাপা চেয়ারম্যান। মাঝে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারে উপস্থিত হলেও মিডিয়া কর্মীদের এড়িয়ে গেছেন। রওশন এরশাদ, নির্বাচন, আসন বণ্টনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলছেন দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। নানান আলোচনা, সমালোচনার পরও আড়ালের কাদের আড়ালেই থাকছেন।
নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো। ভোট সুষ্ঠু করতে রয়েছে দেশি-বিদেশি চাপ। এমন সময়ে জিএম কাদেরের নিশ্চুপ থাকা ও গণমাধ্যমকে এড়িয়ে চলা জন্ম দিয়েছে সংশয় ও প্রশ্নের।
এবার ঢাকা-১৭ ও রংপুর-৩ আসনে ভোট করবেন জিএম কাদের। দুই আসনের পৃথক রিটার্ননিং অফিসারের অফিস থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন তার প্রতিনিধি। নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থীরা যখন বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন, তখন নীরবতা পালন করছেন জিএম কাদের। জিএম কাদেরের বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন তার প্রেস উপদেষ্টারাও।
জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, দলীয় সিদ্ধান্তনুযায়ী রাজনীতির গতি-প্রকৃতি বুঝে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দের পর গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন জিএম কাদের।
জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাপার এক নেতা জাগো নিউজকে বলেন, ১৪ নভেম্বর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভায় সবাই নির্বাচনে না যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে। চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা করি। তবে আমরা আগের অবস্থানের ঠিক বিপরীতে অবস্থান নিয়ে ফেলেছি। এসব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন যায়গায় সমালোচনা হচ্ছে আমাদের বিরুদ্ধে।
সূত্র আরও জানায়, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে বা পরিস্থিতি প্রতিকূলে গেলে ভোট থেকে সরে আসতে পারে জাপা। এসব বিষয়ে আগাম মন্তব্য এড়াতেও গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রেখেছেন জিএম কাদের। যদিও জাপা মহাসচিবের দাবি, নির্বাচন-রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। দলের প্রয়োজনে যে কোনো সময়, যে কোনো সিদ্ধান্ত হতে পারে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দু-তিন জনই কথা বলেন। এ বিষয়ে উনাদের দলের সভাপতি (প্রধানমন্ত্রী) কথা বলেন বলে আমার জানা নেই। ঠিক জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে অনেক আগে থেকেই সিদ্ধান্ত ছিল, জাতীয় পার্টির মুখপাত্র হিসেবে মহাসচিব এবং চেয়ারম্যান কথা বলবেন। চেয়ারম্যান নাম্বার ওয়ান ব্যক্তি, খুব প্রয়োজন ছাড়া চেয়ারম্যানের কথা বলার দরকার নেই। আরেকটা হলো, আমি যা বলছি, সেটা দলের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যানের কনসার্ন নিয়েই বলছি। এখানে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ নাই।



















