
এবাদুল হোসেন
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বাজারে খোলা ভোজ্যতেলের মূল্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রি বা মজুতদারি করে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে প্রশাসন কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। বুধবার (৫ মার্চ) কাজীর দেউরি বাজার পরিদর্শনকালে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
মেয়র জানান, খোলা ভোজ্যতেলের মূল্য ইতিমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো ব্যবসায়ী যদি এই দামের চেয়ে বেশি নেন, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে প্রতিটি বাজারে মনিটরিং টিম কাজ করছে।
তিনি বলেন, “কেউ যদি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে তেল বিক্রি করে বা মজুতদারি করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিছু ব্যবসায়ী দাবি করছেন, তারা বেশি দামে তেল কিনেছেন, তাই বেশি দামে বিক্রি করতে চান। কিন্তু আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রি করা যাবে না।” মেয়র আরও যোগ করেন, “জনগণ এখন অনেক সচেতন। তারা অন্যায়ভাবে বেশি দামে তেল কিনবে না। যদি কোনো ব্যবসায়ী নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা দাবি করে, তাহলে জনগণকে প্রতিবাদ করতে হবে এবং আমাদের ম্যাজিস্ট্রেট টিমকে জানাতে হবে।”
তিনি উল্লেখ করেন, বাজারে বোতলজাত তেলের সরবরাহ থাকলেও খোলা তেলের সরবরাহ কম। এ অবস্থায় তিনি ব্যবসায়ীদের খোলা তেলের সরবরাহ বাড়ানোর নির্দেশ দেন, যাতে সাধারণ মানুষ নির্ধারিত মূল্যে তেল কিনতে পারে। মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “রমজান সংযমের মাস, কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফার লোভে মানুষকে কষ্ট দিচ্ছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন জনগণকে স্বস্তি দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
যতদিন বাজার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসে, ততদিন আমাদের অভিযান চলবে।” তিনি ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রি করতে এবং জনগণকে হয়রানি না করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি জনগণকেও সচেতন থাকতে বলেন এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা চাইলে প্রতিবাদ করে মনিটরিং টিমকে জানানোর অনুরোধ করেন। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সচিব আশরাফুল আমিন এবং ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যা উপস্থিত ছিলেন।












