দুর্যোগের ঝুঁকি ও সংকট মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই ও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ।
শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) এফবিসিসিআইয়ের মিলনায়তনে এ সংক্রান্ত এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ‘রোল অব দ্য প্রাইভেট সেক্টর ইন ডিজাস্টার রিস্ক অ্যান্ড ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট’ শীর্ষক কর্মশালা যৌথভাবে আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানগুলো। পরে এ বিষয়ে এফবিসিসিআই এবং অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মিজানুর রহমান।
মাহবুবুল আলম আরও বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে শিল্পায়নের কোনো বিকল্প নেই। আর এর মূল বিষয় হলো কমপ্লায়েন্স। কারণ ভবন বা কারখানার কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত না হলে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না। তবে লাইসেন্স ইস্যুকারী সংস্থাগুলোরও অনেক দায়িত্ব রয়েছে বলে জানান এফবিসিসিআই সভাপতি। তিনি বলেন, ২০১৮ সাল থেকে শিল্পসহ বিভিন্ন খাত নিয়ে কাজ করছে এফবিসিসিআই, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিডার এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, আজকের এই কর্মশালা এলডিসি উত্তর বাংলাদেশের প্রস্তুতিমূলক কাজের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মধ্য দিয়ে এফবিসিসিআই জাতীয় দায়িত্বের একটি অংশের কাঠামোবদ্ধ কাজের সূচনা করেছে। এফবিসিসিআই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের শীর্ষ সংগঠন হিসেবে এক্ষেত্রে দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন এবং নিজ উদ্যোগের মাধ্যমে তা প্রমাণ করেছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় ভালো পণ্য আমদানি ও ব্যবহারের ওপর জোর দেন লোকমান হোসেন মিয়া।
অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের ব্যক্তি খাতের দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং সক্ষমতা বিষয়ে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), দেশের প্রান্তিক উদ্যোক্তা, বিশেষ করে তরুণ ও নারী উদ্যোক্তা এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।
ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থান বিবেচনার করে আমাদের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে, আমাদের নিজেদের কাজের জন্য নিজেদের সমাধান বের করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে ডিসিসিআইয়ের সঙ্গে কাজের মাধ্যমে আমাদের একটি অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশি সংগঠনের নিজস্ব কাঠামো অনুযায়ী বাংলাদেশের নীতি কাঠামোর সঙ্গে মিল রেখে কোনো একটি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা গেলে, তা বেশি কার্যকর হয়। আমরা বুঝে নেবো যে আমাদের ঝুঁকি কোথায় আছে এবং তার ভিত্তিতে যদি আমরা সেগুলো কমানোর জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করি, তবেই আমরা লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো, ঠিকভাবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মো. মিজানুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার ৫৩ বছর পূর্তিতে দাঁড়িয়ে আজকের বাংলাদেশে বেসরকারি খাত তথা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা জাতীয় উন্নয়ন বিনিয়োগে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশের যোগান দিচ্ছেন। বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় আমাদের সবার সম্মিলিত প্রয়াসে বেসরকারি খাতকে দুর্যোগ সহনশীল করে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। আমরা সারা পৃথিবীতে জানান দিতে পেরেছি যে, ধ্বংসস্তূপের মাঝ থেকে কীভাবে বিশ্বের সর্বোচ্চ রেটিং প্রাপ্ত গ্রিন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যায়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: ব্যারিস্টার মোঃ মনির হোসেন, যোগাযোগ অফিস : ১৯ তলা ইউটিসি বিল্ডিং, কাওরানবাজার, ঢাকা, ১২১৫, মোবাইল : ০১৩২৭-০২২২৮১, ইমেইল : deshnews04@gmail.com
© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২-২০২৩ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি