ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিক অপপ্রচার, মানহানিকর তথ্য ছড়ানো, প্যাড জালিয়াতি এবং চাঁদা দাবি করার অভিযোগে ইয়াসিন মাহমুদের বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেছেন সাংবাদিক আলামিন খন্দকার।গত ২ ডিসেম্বর ২০২৫ (সোমবার) চট্টগ্রাম কোর্ট সাইবার ট্রাইব্যুনালে এই মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়।আলামিন খন্দকার বর্তমানে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার অর্থ বিষয়ক সম্পাদক এবং জাতীয় দৈনিক অর্থদৃষ্টি পত্রিকার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ব্যুরো চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।ঘটনার বিস্তারিত পটভূমি
গত কয়েক মাস ধরে ইয়াসিন মাহমুদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে সাংবাদিক আলামিন খন্দকারকে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে বিভ্রান্তিকর, অসত্য, মানহানিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নানা পোস্ট দিয়ে আসছেন।এসব পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন—আলামিন খন্দকার নাকি “সাংবাদিকতার নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করেন।”তিনি নাকি “নিজেকে উকিল পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা আদায় করেন।”সাংবাদিকদের একটি গ্রুপ নাকি তার বিরুদ্ধে “পদত্যাগ পত্র দিয়েছে”—এমন মিথ্যা তথ্য প্রচার।এছাড়াও অভিযোগে বলা হয়, ইয়াসিন মাহমুদ বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের অফিসিয়াল প্যাড জালিয়াতি করে তা ব্যবহার করে ভুয়া তালিকা ও ভুয়া বিজ্ঞপ্তি ছড়াচ্ছেন। এই প্যাডে সাংবাদিকদের নাম ব্যবহার করে এমনভাবে তথ্য তৈরি করা হয়েছে যেন তারা প্রেসক্লাব থেকে পদত্যাগ করেছেন।
বাংলাদেশ প্রেসক্লাব যেহেতু সরকারের নিবন্ধিত জাতীয় সংগঠন, তাই এর নাম ব্যবহার করে জাল কাগজপত্র তৈরি করা একটি গুরুতর অপরাধ বলে মন্তব্য করেছেন সংগঠনটির অনেক সিনিয়র সদস্য।চাঁদা দাবি ও হুমকির অভিযোগ,মামলার অন্তর্ভুক্ত আরও একটি গুরুতর অভিযোগ হলো—আলামিন খন্দকার ইয়াসিন মাহমুদকে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলে ইয়াসিন উল্টো ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন।অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ইয়াসিন সরাসরি বলেন—“আমাকে ২ লক্ষ টাকা না দিলে তোর বিরুদ্ধে আরও অনেক কিছু লিখে তোর সামাজিক মান-সম্মান শেষ করে দেব।”এই হুমকির কারণে সাংবাদিক আলামিন এবং তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান তিনি।পরিবার, সহকর্মী ও সাংবাদিক মহলের প্রতিক্রিয়া এই ঘটনায় সাংবাদিক আলামিনের পরিবার ব্যাপক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করছেন, সামাজিক মাধ্যমে এমন পরিকল্পিত অপপ্রচার কারও ব্যক্তিগত জীবন, কর্মজীবন ও সুনাম নষ্ট করার ক্ষেত্রে বিশাল নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।জেলা প্রেসক্লাবের অনেক সদস্য এই ঘটনাকে “পূর্বপরিকল্পিত সাইবার হয়রানি” বলে অভিহিত করেছেন। তারা বলেন—সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অপবাদ,সংগঠনের নাম ব্যবহার করে জাল কাগজপত্র তৈরি,এবং চাঁদা দাবি—এগুলো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং আইনের দৃষ্টিতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।সাইবার ট্রাইব্যুনালের অবস্থান চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনাল মামলাটি গ্রহণ করে প্রাথমিক নথি সংরক্ষণ করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে—ফেসবুকে মানহানিকর পোস্ট,জাল কাগজপত্র ব্যবহার,আর্থিক চাঁদা দাবি এবং হুমকি—এসবই সাইবার অপরাধের আওতায় পড়ে এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে শিগগিরই ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক আপডেট দিতে পারে বলে জানা গেছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের বিস্তৃত প্রভাব সাংবাদিক আলামিন খন্দকার মন্তব্য করেন—“ফেসবুক যোগাযোগের একটি সুন্দর মাধ্যম। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি এর অপব্যবহার করে অন্যদের হয়রানি করে থাকে। আমার বিরুদ্ধে যে মিথ্যা অপপ্রচার হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, পরিকল্পিত এবং মানহানিকর।”
তিনি আরো বলেন—“আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই কোনো প্রতিশোধমূলক পথে না গিয়ে সরাসরি আইনের আশ্রয় নিয়েছি।” সর্বশেষ পরিস্থিতি,বর্তমানে মামলাটি সাইবার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।সাংবাদিক, সংগঠনের নেতা, এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এই ঘটনাকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে।অনেকেই মনে করছেন—এ ধরনের মামলা সাইবার বুলিং, মিথ্যা তথ্য প্রচার, এবং সামাজিক মাধ্যমে সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করার বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করতে পারে
সম্পাদক ও প্রকাশক: ব্যারিস্টার মোঃ মনির হোসেন, যোগাযোগ অফিস : ১৯ তলা ইউটিসি বিল্ডিং, কাওরানবাজার, ঢাকা, ১২১৫, মোবাইল : ০১৩২৭-০২২২৮১, ইমেইল : deshnews04@gmail.com
© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২-২০২৩ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি