
এনামুল হক আরিফ
বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক এনামুল হক আরিফ চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালে ইয়াসিন মাহমুদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মানহানি, জালিয়াতি ও সাইবার অপরাধের মামলা দায়ের করেছেন।গত ১ ডিসেম্বর ২০২৫, সোমবার এ মামলা আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়।
অভিযোগের মূল বিবরণ মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ইয়াসিন মাহমুদ সাংবাদিক সমাজ ও বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে আসছে।যেসব সাংবাদিককে লক্ষ্য করে অপপ্রচার:আল-আমিন খন্দকার (অর্থ সম্পাদক)তাহমিনা উদ্দিন (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক)আরেফিন সুলতানা কুলি (সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক)এবং আরও কয়েকজন সদস্য তাদের পাশাপাশি সংগঠনটির সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যাচার, ভুয়া প্রচারণা, বিভ্রান্তিকর পোস্ট, মানহানিকর মন্তব্য করে আসছেন ইয়াসিন মাহমুদ।এনামুল হক আরিফের বিরুদ্ধে অপপ্রচার,মামলায় উল্লেখ রয়েছে—ইয়াসিন মাহমুদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এনামুল হক আরিফ সম্পর্কে নিম্নোক্ত মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মন্তব্য প্রকাশ করেন—“এনামুল হক আরিফ গলায় সাংবাদিকতার কার্ড লাগিয়ে চাঁদাবাজি করে বেড়ান।”তিনি উকিল পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ধান্দা করেন।”এগুলো সম্পূর্ণ মনগড়া, অসত্য এবং মানহানিকর বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করেন এনামুল হক আরিফ।
প্রেসক্লাবের প্যাড জালিয়াতির অভিযোগ
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে—
ইয়াসিন মাহমুদ বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের কোন সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও সংগঠনের অফিসিয়াল প্যাড জালিয়াতি করে তাতে ভুয়া তথ্য লিখে ফেসবুকে পোস্ট করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।
ভুয়া প্যাড তৈরি সাংবাদিকদের নাম বিকৃত করে লেখা মিথ্যা পদত্যাগপত্র প্রকাশ,সংগঠনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক পোস্ট এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সংগঠনের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ তোলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ
এনামুল হক আরিফ জানান,
তিনি বিষয়টি সমাধানের জন্য ইয়াসিন মাহমুদের সাথে যোগাযোগ করলে উল্টো ইয়াসিন তাকে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে।ইয়াসিন হুমকি দিয়ে বলেন—“৫ লক্ষ টাকা না দিলে ফেসবুকে এমন কিছু লিখব যাতে এনামুল হক আরিফ সমাজে মুখ দেখাতে না পারে।”এই হুমকি শুধু মানহানিকর নয়, বরং গুরুতর সাইবার অপরাধ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে মামলার নথিতে।এনামুল হক আরিফ বলেন—“সোশ্যাল মিডিয়া একটি সুন্দর যোগাযোগ মাধ্যম। কিন্তু ইয়াসিন মাহমুদের মতো কিছু অসাধু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে এ মাধ্যম অসম্মানিত হচ্ছে।”তিনি আরো বলেন—“বাংলাদেশ প্রেসক্লাব সরকারি রেজিস্ট্রেশনভুক্ত দেশব্যাপী বিস্তৃত একটি সংগঠন।”“৭০০+ জেলা শাখা নিয়ে এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ সাংবাদিক সংগঠন।”“ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখা সবসময় সত্য, সঠিক এবং নির্ভীক সংবাদ পরিবেশনে বিশ্বাসী।”“মাদক, নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ ও সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে আমরা বরাবরই বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছি।”তিনি অভিযোগ করে বলেন—“ইয়াসিন মাহমুদ সদস্য না হয়েও শুরু থেকেই সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত। তাকে আইনের মাধ্যমে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।”এনামুল হক আরিফ আরও বলেন—“এই প্যাড জালিয়াতিতে তার সঙ্গে আরও ৪–৫ জন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”ট্রাইব্যুনালের অবস্থান ও তদন্ত চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনাল মামলাটি গ্রহণ করে প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।সাইবার আইনের আওতায়—মানহানি,চাঁদাবাজি,ডিজিটাল হুমকি,জাল কাগজপত্র তৈরি,ভুয়া প্রচারণা,সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার—এগুলো সবই শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।সামাজিক প্রতিক্রিয়া,ঘটনার পর সাংবাদিক মহলে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।অনেকেই মনে করছেন—এই মামলাটি দেশে সাইবার অপরাধ, প্যাড জালিয়াতি এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচারের বিরুদ্ধে একটি দৃষ্টান্তমূলক মামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।











