
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আরও একবার চরম হুমকির মুখে পড়েছে। ইসলামি রাজনীতি এবং উগ্র ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে কলম ধরার অপরাধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে তরুণ লেখক মোঃ রুম্মান হোসেন (২৭) এর বিরুদ্ধে। এরই মধ্যে তার বাড়িতে চালানো হয়েছে ভয়াবহ হামলা, যার ফলে তার পরিবার চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।গত জুন মাসে সংবাদ৭১ এবং ঢাকা২৪ নিউস এ প্রকাশিত কিছু প্রবন্ধে রুম্মান হোসেন স্পষ্ট ভাষায় লেখেন,
“বাংলাদেশ কখনো মুক্তচিন্তার রাষ্ট্র হতে পারবে না, যদি ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম থাকে, সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ’ থেকে যায় এবং ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো নিষিদ্ধ করা না হয়। আমি এমন এক মানবিক বাংলাদেশ চাই যেখানে হিন্দু, সমকামী, নাস্তিক—সবাই সম্মানের সাথে নিরাপদে বাঁচতে পারে।”
এসব প্রবন্ধ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলো ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এবং মোঃ রুম্মান হোসেন (২৭) এর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, রুম্মান হোসেনের লেখা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
ঢাকা সাইবার ট্রাইব্যুনাল প্রাথমিক শুনানি শেষে রুম্মান হোসেন সহ চারজনের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন, এবং নির্ধারিত দিনে আদালতে হাজির হয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের নির্দেশ দিয়েছেন।
এরপর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ১ জুলাই ২০২৫, মধ্যরাতে প্রায় দশজন মুখোশধারী উগ্রপন্থী রুম্মান হোসেনের লক্ষ্মীপুরের পারিবারিক বাড়িতে হামলা চালায়। এই ঘটনার পর থেকে তার পরিবার চরম আতঙ্কে রয়েছে। তারা প্রায় গৃহবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন, কারণ হামলাকারীরা বারবার এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং স্থানীয় দোকান-মসজিদ থেকে রুম্মানের খোঁজ নিচ্ছে।
রুম্মান হোসেন Desh247 কে বলেন, আমি মুক্তচিন্তার মানুষ। ধর্মীয় উগ্রতা আর ইসলামী রাজনীতির বিরুদ্ধে লেখার জন্য আমাকে আর আমার পরিবারকে এভাবে হুমকি ও মামলার মুখোমুখি হতে হবে, ভাবিনি। কিন্তু তবুও আমি সত্যের পক্ষে থাকব।












