ঢাকা , বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ছয় শিশুর মৃত্যুর বিচার হয়, ছয়শ শিশুর ঘাতকরা শাস্তি পায় না! আবাসন খাতে চরম মন্দা: অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বিশেষ প্রণোদনার তাগিদ পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ: গ্রামীণ বাংলাদেশের ভাগ্যবদল করছেন তারেক রহমান বাজেট ২০২৬-২৭: চ্যালেঞ্জ উত্তরণে ত্রিমুখী কৌশলের বিকল্প নেই ইউনূস সরকারের রেখে যাওয়া ‘অবসাদ’ ও আমলাতান্ত্রিক দেওয়াল: বাজেট বাস্তবায়নে মূল বাধা ভার্চুয়াল জগৎ যখন অপরাধের ফাঁদ: কিশোর গ্যাংয়ের নেপথ্যে স্মার্টফোন ইউনূসের কালো আইনে অর্থনীতির সর্বনাশ তরুণদের খেলাধুলায় ফেরাতে গাংনীতে বসুন্ধরা শুভসংঘের তিন মাসব্যাপী ফুটবল বিতরণ কর্মসূচি বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির বাস্কেটবল কোর্ট পরিদর্শনে ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা মুগদায় বসুন্ধরা শুভসংঘের মাদকবিরোধী আলোচনা ও শপথ

সত্য লেখার চর্চা হারিয়ে যাচ্ছে সাংবাদিকতায় – চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের আলোচনা সভায় ওসমান গণি মনসুর

  • Avatar
  • আপডেট টাইম : ০২:১৮:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৫৩ টাইম ভিউ

চট্টগ্রাম ব্যুরো

দি পিপলস ভিউ পত্রিকার সম্পাদক ও কমনওয়েলথ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (সিজেএ) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সেক্রেটারি জেনারেল ওসমান গণি মনসুর বলেছেন,‘সাংবাদিকের দায়িত্ব হলো সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলা, সেই চর্চা এখন অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। লেখনির মধ্য দিয়ে সত্যকে ধারণ করতে না পারলে সাংবাদিকতা অর্থহীন হয়ে পড়ে।

শনিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত প্রয়াত সাংবাদিক মো. মাহবুব উল আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবের আহমেদ আসগারী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নিজাম উদ্দিন আহমদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভায় অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।

ওসমান গণি মনসুর বলেন, একসময় কিছু গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে প্রেস ক্লাবটিকে কুক্ষিগত করে রেখেছিল। সেটি কোনো সভ্য সমাজে কাম্য নয়। গত কয়েক বছরে আমরা এমন এক সময় দেখেছি, যখন সাংবাদিকরা হয়ে পড়েছিলেন উপহাসের পাত্র।

তিনি আরও বলেন, ‘ষাটের দশকে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব উদ্বোধন করেছিলেন ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান। পরবর্তীতে সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদও এখানে আসার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু বিভিন্ন কারণে আসা হয়নি। এর আগে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এখানে এসেছিলেন, আমি তখন তাঁর ছবি তুলেছিলাম। ছবি তুলতে গেলে জিয়াউর রহমান সাহেব বলেছিলেন, ‘খাওয়ার ছবি নয়, কাজের ছবি তোলো। এই বাক্যটাই আমাকে সারাজীবন অনুপ্রেরণা দিয়েছে।

সভায় বক্তারা বলেন, আসগারী ভাই একজন বীর মুক্তিযোদ্বা ছিলেন। তিনি জ্ঞান ও প্রজ্ঞাবান সাংবাদিক ছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একটি বই লিখেছিলেন, তাঁর লিখা বই নিয়ে সুহৃদ বন্ধুদের বলে গিয়েছিলেন বইটি তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশ করার জন্য। বক্তারা তাঁর পরিবারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা বইটি প্রকাশ করার উদ্যোগ নিলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব এ ব্যাপারে সহযোগিতা করবে। প্রয়াত এই তিন সাংবাদিক চট্টগ্রাম ও দেশের সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে স্বমহিমায় উজ্জ্বল ছিলেন। তাঁরা সমাজ ও রাস্ট্রের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকতা করেছিলেন। তাঁরা সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিক ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সাবের আহমেদ আসগারী তখন চট্টগ্রাম ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২৬ মার্চ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, সেই ঘোষণাপত্রের খসড়া লেখার দায়িত্বে ছিলেন সাবের আহাম্মেদ আসগারী। পরে এ কে খান সাহেব ও এম এ হান্নান সাহেব সেই খসড়াটি সংশোধন করেন।

আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের শুরুতে প্রয়াত সাংবাদিক মো. মাহবুব উল আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবের আহমেদ আসগারী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নিজাম উদ্দিন আহমদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন শাহ আনিছ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা জামাল উদ্দিন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব জাহিদুল করিম কচি এবং সঞ্চালনা করেন গোলাম মওলা মুরাদ। স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন, মুস্তফা নঈম, মাঈনুদ্দিন কাদেরী সওকত, শহিদুল ইসলাম, শাহনেওয়াজ রিটন, মাহবুবুল মওলা রিপন, ফারুক মুনির, হাসান মুকুল, সোহাগ কুমার বিশ্বাস, মাহবুবুর রহমান, কামরুল হুদা জাহাঙ্গীর আলম ও মুহাম্মদ আজাদ প্রমুখ।

ট্যাগ:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে
Avatar

জনপ্রিয় পোস্ট

ছয় শিশুর মৃত্যুর বিচার হয়, ছয়শ শিশুর ঘাতকরা শাস্তি পায় না!

সত্য লেখার চর্চা হারিয়ে যাচ্ছে সাংবাদিকতায় – চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের আলোচনা সভায় ওসমান গণি মনসুর

আপডেট টাইম : ০২:১৮:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫

চট্টগ্রাম ব্যুরো

দি পিপলস ভিউ পত্রিকার সম্পাদক ও কমনওয়েলথ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (সিজেএ) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সেক্রেটারি জেনারেল ওসমান গণি মনসুর বলেছেন,‘সাংবাদিকের দায়িত্ব হলো সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলা, সেই চর্চা এখন অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। লেখনির মধ্য দিয়ে সত্যকে ধারণ করতে না পারলে সাংবাদিকতা অর্থহীন হয়ে পড়ে।

শনিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত প্রয়াত সাংবাদিক মো. মাহবুব উল আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবের আহমেদ আসগারী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নিজাম উদ্দিন আহমদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভায় অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।

ওসমান গণি মনসুর বলেন, একসময় কিছু গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে প্রেস ক্লাবটিকে কুক্ষিগত করে রেখেছিল। সেটি কোনো সভ্য সমাজে কাম্য নয়। গত কয়েক বছরে আমরা এমন এক সময় দেখেছি, যখন সাংবাদিকরা হয়ে পড়েছিলেন উপহাসের পাত্র।

তিনি আরও বলেন, ‘ষাটের দশকে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব উদ্বোধন করেছিলেন ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান। পরবর্তীতে সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদও এখানে আসার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু বিভিন্ন কারণে আসা হয়নি। এর আগে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এখানে এসেছিলেন, আমি তখন তাঁর ছবি তুলেছিলাম। ছবি তুলতে গেলে জিয়াউর রহমান সাহেব বলেছিলেন, ‘খাওয়ার ছবি নয়, কাজের ছবি তোলো। এই বাক্যটাই আমাকে সারাজীবন অনুপ্রেরণা দিয়েছে।

সভায় বক্তারা বলেন, আসগারী ভাই একজন বীর মুক্তিযোদ্বা ছিলেন। তিনি জ্ঞান ও প্রজ্ঞাবান সাংবাদিক ছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একটি বই লিখেছিলেন, তাঁর লিখা বই নিয়ে সুহৃদ বন্ধুদের বলে গিয়েছিলেন বইটি তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশ করার জন্য। বক্তারা তাঁর পরিবারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা বইটি প্রকাশ করার উদ্যোগ নিলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব এ ব্যাপারে সহযোগিতা করবে। প্রয়াত এই তিন সাংবাদিক চট্টগ্রাম ও দেশের সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে স্বমহিমায় উজ্জ্বল ছিলেন। তাঁরা সমাজ ও রাস্ট্রের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকতা করেছিলেন। তাঁরা সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিক ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সাবের আহমেদ আসগারী তখন চট্টগ্রাম ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২৬ মার্চ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, সেই ঘোষণাপত্রের খসড়া লেখার দায়িত্বে ছিলেন সাবের আহাম্মেদ আসগারী। পরে এ কে খান সাহেব ও এম এ হান্নান সাহেব সেই খসড়াটি সংশোধন করেন।

আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের শুরুতে প্রয়াত সাংবাদিক মো. মাহবুব উল আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবের আহমেদ আসগারী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নিজাম উদ্দিন আহমদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন শাহ আনিছ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা জামাল উদ্দিন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব জাহিদুল করিম কচি এবং সঞ্চালনা করেন গোলাম মওলা মুরাদ। স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন, মুস্তফা নঈম, মাঈনুদ্দিন কাদেরী সওকত, শহিদুল ইসলাম, শাহনেওয়াজ রিটন, মাহবুবুল মওলা রিপন, ফারুক মুনির, হাসান মুকুল, সোহাগ কুমার বিশ্বাস, মাহবুবুর রহমান, কামরুল হুদা জাহাঙ্গীর আলম ও মুহাম্মদ আজাদ প্রমুখ।