ঢাকা , রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অর্থ পাচার ও সুইস ব্যাংকে আমানত বৃদ্ধি, প্রশ্নের মুখে বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের নীতি বিএনপি সরকারের চার মাস: সুন্দর পরিকল্পনাগুলো কেন আটকে যাচ্ছে? পথহারা কূটনীতি, ফেরাতে হবে সঠিক পথে ছয় শিশুর মৃত্যুর বিচার হয়, ছয়শ শিশুর ঘাতকরা শাস্তি পায় না! আবাসন খাতে চরম মন্দা: অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বিশেষ প্রণোদনার তাগিদ পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ: গ্রামীণ বাংলাদেশের ভাগ্যবদল করছেন তারেক রহমান বাজেট ২০২৬-২৭: চ্যালেঞ্জ উত্তরণে ত্রিমুখী কৌশলের বিকল্প নেই ইউনূস সরকারের রেখে যাওয়া ‘অবসাদ’ ও আমলাতান্ত্রিক দেওয়াল: বাজেট বাস্তবায়নে মূল বাধা ভার্চুয়াল জগৎ যখন অপরাধের ফাঁদ: কিশোর গ্যাংয়ের নেপথ্যে স্মার্টফোন ইউনূসের কালো আইনে অর্থনীতির সর্বনাশ

মতলবে আলোচিত বালুখেকো কাজী মতিন গ্রেপ্তার: এলাকাবাসীর স্বস্তি, আনন্দ মিছিল

  • Avatar
  • আপডেট টাইম : ০৫:২৪:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪
  • ৪২৪ টাইম ভিউ

নিজস্ব প্রতিনিধি

চাঁদপুরের মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী চক্রের অন্যতম হোতা, মতলবের আলোচিত কাজী মতিন (৪০) কে গ্রেপ্তার করেছে চাঁদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

সোমবার (৩০ ডিসেম্বর ২০২৪) বিকেলে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যান ঘাট মসজিদের সামনে থেকে এসআই (উপ-পরিদর্শক) জুয়েল রেজার নেতৃত্বে একটি ডিবি টিম অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোরশেদুল আলমের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

কে এই কাজী মতিন?
কাজী মতিন মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের কাজী আবুল হোসেনের ছেলে। তার বড় ভাই কাজী মিজানুর রহমান মোহনপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। জানা গেছে, কাজী মিজানুরের বিরুদ্ধে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে।

কাজী মতিন ও তার বড় ভাই দীর্ঘদিন ধরে চাঁদপুরের বিভিন্ন স্থানে মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতেন। কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশ একাধিকবার নদী থেকে অবৈধ ড্রেজার ও শ্রমিক আটক করলেও, মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতেন। আটক শ্রমিকদের ছাড়িয়ে নিতে কাজী মতিন নৌ থানা ও অন্যান্য প্রশাসনিক দপ্তরে তদবির করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া
কাজী মতিন গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে মতলবের বিভিন্ন এলাকায় স্বস্তি নেমে আসে। আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করে সাধারণ মানুষ। এলাকাবাসী জানান, কাজী মতিন দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের জমি ও নদীর পাড় দখল করে বালু উত্তোলন করছিলেন।

এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, “কাজী মতিন ছিল সব অপকর্মের মাস্টারমাইন্ড। তাকে গ্রেপ্তার করায় আমরা অনেকটা মুক্তি পেয়েছি।”

রাজনৈতিক তৎপরতা ও চাপ
এদিকে, কাজী মতিনকে ছাড়িয়ে নিতে জেলা বিএনপির এক সিনিয়র নেতা তৎপরতা চালিয়েছেন বলে জানা গেছে। এমনকি সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের উপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করা হয়েছে।

তবে, চাঁদপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা
এলাকাবাসী আশা করছেন, কাজী মতিনের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে চাঁদপুরের মেঘনা নদী অবৈধ বালু উত্তোলন চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নদী সুরক্ষিত থাকবে।

ট্যাগ:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে
Avatar

জনপ্রিয় পোস্ট

অর্থ পাচার ও সুইস ব্যাংকে আমানত বৃদ্ধি, প্রশ্নের মুখে বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের নীতি

মতলবে আলোচিত বালুখেকো কাজী মতিন গ্রেপ্তার: এলাকাবাসীর স্বস্তি, আনন্দ মিছিল

আপডেট টাইম : ০৫:২৪:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪

নিজস্ব প্রতিনিধি

চাঁদপুরের মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী চক্রের অন্যতম হোতা, মতলবের আলোচিত কাজী মতিন (৪০) কে গ্রেপ্তার করেছে চাঁদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

সোমবার (৩০ ডিসেম্বর ২০২৪) বিকেলে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যান ঘাট মসজিদের সামনে থেকে এসআই (উপ-পরিদর্শক) জুয়েল রেজার নেতৃত্বে একটি ডিবি টিম অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোরশেদুল আলমের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

কে এই কাজী মতিন?
কাজী মতিন মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের কাজী আবুল হোসেনের ছেলে। তার বড় ভাই কাজী মিজানুর রহমান মোহনপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। জানা গেছে, কাজী মিজানুরের বিরুদ্ধে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে।

কাজী মতিন ও তার বড় ভাই দীর্ঘদিন ধরে চাঁদপুরের বিভিন্ন স্থানে মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতেন। কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশ একাধিকবার নদী থেকে অবৈধ ড্রেজার ও শ্রমিক আটক করলেও, মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতেন। আটক শ্রমিকদের ছাড়িয়ে নিতে কাজী মতিন নৌ থানা ও অন্যান্য প্রশাসনিক দপ্তরে তদবির করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া
কাজী মতিন গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে মতলবের বিভিন্ন এলাকায় স্বস্তি নেমে আসে। আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করে সাধারণ মানুষ। এলাকাবাসী জানান, কাজী মতিন দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের জমি ও নদীর পাড় দখল করে বালু উত্তোলন করছিলেন।

এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, “কাজী মতিন ছিল সব অপকর্মের মাস্টারমাইন্ড। তাকে গ্রেপ্তার করায় আমরা অনেকটা মুক্তি পেয়েছি।”

রাজনৈতিক তৎপরতা ও চাপ
এদিকে, কাজী মতিনকে ছাড়িয়ে নিতে জেলা বিএনপির এক সিনিয়র নেতা তৎপরতা চালিয়েছেন বলে জানা গেছে। এমনকি সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের উপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করা হয়েছে।

তবে, চাঁদপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা
এলাকাবাসী আশা করছেন, কাজী মতিনের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে চাঁদপুরের মেঘনা নদী অবৈধ বালু উত্তোলন চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নদী সুরক্ষিত থাকবে।