ঢাকা , শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
“ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৬” ঠিক কতটা যুক্তিসঙ্গত? সাভারে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা দোয়া ইয়াসিন মাহমুদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক আলামিন খন্দকারের সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা: সামাজিক মাধ্যমে মানহানির অভিযোগ ইয়াসিন মাহমুদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক তাহমিনা উদ্দিনের সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা: অপপ্রচার, ছবি বিকৃতি ও চাঁদা দাবির অভিযোগ ইয়াসিন মাহমুদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সাইবার অপরাধ মামলা: সাইবার ট্রাইব্যুনালে এনামুল হক আরিফের মামলা বাজিতপুরে পিস্তল গুলি দেশীয় অস্ত্রসহ ২২ জন গ্রেফতার টগি ফান ওয়ার্ল্ডে উদযাপিত হলো হ্যালোইন উৎসব সাভারে ছায়াবিথী এলাকায় ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রধান অতিথি লায়ন মোঃ খোরশেদ আলম বসুন্ধরার আই ব্লকে উদ্বোধন করা হলো ‘হেরিটেজ সুইটস’ এর ২য় শাখা সম্পাদক জাকির হোসেনের মায়ের চোখে অস্ত্রোপচার আজ — দেশবাসীর দোয়া প্রার্থনা

মাগুরায় মহিলা আ. লীগ নেত্রী রিয়ার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ৮ বছর পর প্রতারণার মামলা কেন?

  • Avatar
  • আপডেট টাইম : ১১:২৫:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ এপ্রিল ২০২৪
  • ৬৭৫ টাইম ভিউ

অবিশাস্য একটি ঘটনা ঘটেছে মাগুরা জেলায়। শুরু হয়েছে রাজনীতির নোংরা খেলা। জনপ্রিয়তায় না পেরে শেষ পর্যন্ত ৮ বছর আগের একটি ঘটনাকে ভিন্ন রং দিয়ে একজন জনপ্রিয় মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রীকে কলংকিত করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে অত্যন্ত জঘন্য ভাবে। স্থানীয় একজন চাঁদাবাজ ও মাদকাসক্ত সাংবাদিককে মোটা অংকের টাকায় ম্যানেজ করে তার মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউব ও কিছু অনিবন্ধিত নিউজ পোর্টালে চালানো হচ্ছে লাগাতার অপপ্রচার। এসব অপপ্রচারে ওই নেত্রীর সম্মান হানী হওয়ায় তিনি ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা করেও রেহাই পাচ্ছেন না। এখন তাকে দলের স্বীয় পদ থেকে বহিষ্কার করার জন্য আপ্রান চেষ্টা করা হচ্ছে। সাংবাদিক নামধারী কিছু কুলাঙ্গারের এহেন তথ্য সন্ত্রাসে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন ওই মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী। এলাকায় তাকে একজন খারাপ চরিত্রের মহিলা নেত্রী হিসাবে প্রতিষ্ঠা করতে চলছে নিরন্তর প্রচেষ্টা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এই মহিলা নেত্রীর নাম স্বর্ণালী জেয়ারদার (রিয়া)। মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার সারেঙ্গদিয়া গ্রামে তার বাড়ী। তিনি শ্রীপুর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সভানেত্রীর পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তিনি প্রায় সময়ই ঢাকার ভাড়া বাসায় পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সাথে অবস্থান করেন। রাজনৈতিক কোন প্রোগ্রাম থাকলেই শ্রীপুর বা মাগুরায় ছুঁটে যান। তার নেতৃত্বে মাগুরা ও শ্রীপুর এলাকায় নারীদের রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্যনীয় হয়ে উঠেছে।

নারী কল্যাণ ও মানবকল্যাণমুখি রাজনৈতিক সেবা দিয়ে অসম্ভব জনপ্রিয়তা অর্জন করায় এলাকার নারী সমাজের দাবীতে তিনি আসন্ন শ্রীপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নিজেকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীতা ঘোষণা দিয়েছেন। আর এটাই তার জীবনে কাল হয়ে দেখা দিয়েছে। স্থানীয় রাজনীতিতে থাকা তার একটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ মহল তাকে সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করার অভিপ্রায়ে এবং তার জনপ্রিয়তা প্রশ্নবিদ্ধ করে ভোটের মাঠে যাতে তিনি নামতে না পারেন বা নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারেন সেজন্য তারা মরণ কামড় দিতে শুরু করেছেন।

এ জন্য তার দাবার ঘুঁটি হিসাবে ব্যবহার করছেন মাগুরা জেলা শহরের একজন বিতর্কিত ও মাদকাসক্ত সাংবাদিক ও শ্রীপুর এলাকার একজন বেকার যুবককে। এই যুবকের নাম মাসুম মন্ডল। মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার কাদিরপাড়া গ্রামে তার বাড়ী। মহিলা আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় নেত্রী স্বর্ণালী জোয়ার্দার ওরফে রিয়া জোয়ারর্দারকে ঘায়েল করার জন্য এই যুবককে বাদী করে দীর্ঘ ৮ বছর আগের একটি ঘটনায় আদালতে মামলা করা হয়েছে।

এই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসের ২৪ তারিখে সেনাবাহিনীতে পিয়ন পদে চাকুরী দিতে তার কাছ থেকে সাড়ে ৭ লাখ টাকা নিয়ে ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়েছেন স্বর্ণালী জোয়ারর্দার। মামলার অভিযোগটি বিশ্বাস না হওয়ায় এবং অভিযোগটি তামাদী হয়ে যাওয়ায় আদালত এই মামলাটিতে সরাসরি কগনিজেন্স না নিয়ে তদন্তের জন্য মাগুরা সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। অথচ এই ঘটনাকে (তিলকে তাল বানিয়ে) প্রচার করা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

অপরদিকে বেশ কয়েক বছর আগের স্বর্ণালী জোয়ার্দারের জন্মদিনের একটি অনুষ্ঠানের ভিডিওকে অসত উদ্দেশ্যে নোংরাভাবে উপস্থাপন করে একজন সাংবাদিক ও কয়েকজন যুবক ফেসবুকে ছেড়ে দিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।ফেসবুকে এই ভিডিও দেখে এলাকার মানুষ যারপরনাই বিস্মিত হয়েছেন। অপরদিকে স্বর্ণালী জোয়ার্দারের একখানা গাড়ী রেন্ট এ কারে ভাড়া দেওয়া আছে। এই গাড়ীর ড্রাইভার ভাড়া মারতে গিয়ে গাঁজাসহ পুলিশের কাছে গ্রেফতার হয়েছে। সে দ্বায় সম্পুর্ণভাবে ড্রাইভারের। আইন মোতাবেক যদি কোন গাড়ী এক্সিডেন্ট করে বা কোন অপরাধ করে তবে যিনি গাড়ীর মালিক তিনিও আসামী হন। এই মামলাতেও সেটাই হয়েছে।

অথচ: এই মামলার সুত্রধরে স্বর্ণালী জোয়ার্দার রিয়াকে মাদক ব্যবসায়ী হিসাবে প্রচার চালানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে তাকে গ্রেফতার করার জন্য পুলিশ নাকি খুঁজছে। মামলার নথি দৃষ্টে দেখা যায়, প্রায় এক মাস আগেই স্বর্ণালী জোয়ার্দার ওই মামলায় জামিন পেয়েছেন এবং তিনি এখন মুক্তস্বাধীন রাজনীতি ,সমাজ সেবা ও ঘর সংসার করছেন।
এসব অপপ্রচার দেখে শুনে এলাকাবাসী চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

তারা প্রশ্ন রেখেছেন, এ কেমন সাংবাদিকতা ? এ কেমন চরিত্র হননের অপচেষ্টা? এ কেমন নোংরা রাজনীতি? এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, স্বর্ণালী জোয়ার্দার রিয়া এলাকার একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মেয়ে। সর্বাপরি সে পরপোকারী ও জনসেবক। এলাকার নারী জাগরণে তার যথেষ্ট অবদান রয়েছে। বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের একজন পরীক্ষিত নেত্রী তিনি। বিগত সংসদ,উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি রাত দিন মাঠে প্রচারণা চালিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থীর পক্ষে জনমত গঠন করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন। সেই নেত্রীকে বিতর্কিত করতে কেন এই হীন ষড়যন্ত্র? কেন এই অপপ্রচার? কেন এই মিথ্যা মামলা? এলাকাবাসী এই প্রশ্নের উত্তর চেয়েছেন ওই সব হারামখোর সাংবাদিক ও অপপ্রচারকারীদের বিচারও চেয়েছেন।

এ দিকে ক্রমাগত অপপ্রচারের শিকার হয়ে আওয়ামী লীগের মহিলা নেত্রী স্বর্ণালী জোয়ার্দার রিয়া বিষয়টি লিখিতভাবে সংগঠনের শীর্ষ নেতা নেত্রীদের জানিয়েছেন। তাদের পরামর্শেই ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলায় ফেসবুকে ভিডিও আপলোডকারী ও পত্র-পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ প্রচারকারী স্থানীয় সাংবাদিক মিরাজ আহমেদ, ফেসবুকে পোষ্ট শেয়ারদাতা ও তথ্য সরবরাহকারী মাসুম মন্ডলসহ আরো কয়েকজনকে আসামী করা হয়েছে। ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালত মামলা নং ৮৮/২০২৪। ধারা: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৩,২৪,২৫,২৬,২৯, ও ৩৩ ধারা।

মামলাটি বর্তমানে ঢাকার পিবিআই তদন্ত করছে। আসামীদের নোটিশ করা হয়েছে। অপরদিকে এই বিষয়টির অপর ভিকটিম সুমন বাদী হয়ে খুলনা সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন। সেটিও পিবিআইকে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী স্বর্ণালী জোয়ার্দার রিয়ার বলেন, এলাকার একজন মহিলা নেত্রী আমার দলীয় পদ খেয়ে ফেলে নিজেই ওই পদ দখলের জন্যই আমার বিরুদ্ধে এসব ষড়যন্ত্র করছেন। তিনি কিছু অসাধু লোককে টাকা পয়সা দিয়ে ম্যানেজ করে তাদের মাঠে নামিয়েছেন। তারা ৮ বছর আগের একটি ঘটনাকে সামনে এনে আমাকে ঘায়েল করার চেষ্টা করছেন । অথচ: ওই ঘটনার আগা মাথা কিছুই আমি জানি না। যে ছেলে আমার নামে প্রতারণার মামলা করেছে সেই ছেলের মা মিডিয়ার কাছে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা পর্যালোচনা করলেই দেখা যাবে আমি কোন টাকা-পয়সা নেইনি। তিনি সেটা মিডিয়ার কাছে স্বীকারও করেছেন। তার ফুটেজ আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। আর সে যদি টাকাই পাবে তবে এই ৮ বছর চুপ করে ছিল কেন? যেহেতু আমি আসন্ন শ্রীপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছি সেহেতু আরেকজন নেত্রী আমার পেছনে ওঠেপড়ে লেগেছেন। অসাধু লোকদের টাকা খাইয়ে জঘণ্য অপপ্রচার চালাচ্ছেন। আমি তাদের সবার বিরুদ্ধেই আইনগত পদক্ষেপ নেব।

ট্যাগ:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে
Avatar

জনপ্রিয় পোস্ট

“ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৬” ঠিক কতটা যুক্তিসঙ্গত?

মাগুরায় মহিলা আ. লীগ নেত্রী রিয়ার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ৮ বছর পর প্রতারণার মামলা কেন?

আপডেট টাইম : ১১:২৫:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ এপ্রিল ২০২৪

অবিশাস্য একটি ঘটনা ঘটেছে মাগুরা জেলায়। শুরু হয়েছে রাজনীতির নোংরা খেলা। জনপ্রিয়তায় না পেরে শেষ পর্যন্ত ৮ বছর আগের একটি ঘটনাকে ভিন্ন রং দিয়ে একজন জনপ্রিয় মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রীকে কলংকিত করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে অত্যন্ত জঘন্য ভাবে। স্থানীয় একজন চাঁদাবাজ ও মাদকাসক্ত সাংবাদিককে মোটা অংকের টাকায় ম্যানেজ করে তার মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউব ও কিছু অনিবন্ধিত নিউজ পোর্টালে চালানো হচ্ছে লাগাতার অপপ্রচার। এসব অপপ্রচারে ওই নেত্রীর সম্মান হানী হওয়ায় তিনি ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা করেও রেহাই পাচ্ছেন না। এখন তাকে দলের স্বীয় পদ থেকে বহিষ্কার করার জন্য আপ্রান চেষ্টা করা হচ্ছে। সাংবাদিক নামধারী কিছু কুলাঙ্গারের এহেন তথ্য সন্ত্রাসে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন ওই মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী। এলাকায় তাকে একজন খারাপ চরিত্রের মহিলা নেত্রী হিসাবে প্রতিষ্ঠা করতে চলছে নিরন্তর প্রচেষ্টা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এই মহিলা নেত্রীর নাম স্বর্ণালী জেয়ারদার (রিয়া)। মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার সারেঙ্গদিয়া গ্রামে তার বাড়ী। তিনি শ্রীপুর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সভানেত্রীর পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তিনি প্রায় সময়ই ঢাকার ভাড়া বাসায় পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সাথে অবস্থান করেন। রাজনৈতিক কোন প্রোগ্রাম থাকলেই শ্রীপুর বা মাগুরায় ছুঁটে যান। তার নেতৃত্বে মাগুরা ও শ্রীপুর এলাকায় নারীদের রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্যনীয় হয়ে উঠেছে।

নারী কল্যাণ ও মানবকল্যাণমুখি রাজনৈতিক সেবা দিয়ে অসম্ভব জনপ্রিয়তা অর্জন করায় এলাকার নারী সমাজের দাবীতে তিনি আসন্ন শ্রীপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নিজেকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীতা ঘোষণা দিয়েছেন। আর এটাই তার জীবনে কাল হয়ে দেখা দিয়েছে। স্থানীয় রাজনীতিতে থাকা তার একটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ মহল তাকে সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করার অভিপ্রায়ে এবং তার জনপ্রিয়তা প্রশ্নবিদ্ধ করে ভোটের মাঠে যাতে তিনি নামতে না পারেন বা নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারেন সেজন্য তারা মরণ কামড় দিতে শুরু করেছেন।

এ জন্য তার দাবার ঘুঁটি হিসাবে ব্যবহার করছেন মাগুরা জেলা শহরের একজন বিতর্কিত ও মাদকাসক্ত সাংবাদিক ও শ্রীপুর এলাকার একজন বেকার যুবককে। এই যুবকের নাম মাসুম মন্ডল। মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার কাদিরপাড়া গ্রামে তার বাড়ী। মহিলা আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় নেত্রী স্বর্ণালী জোয়ার্দার ওরফে রিয়া জোয়ারর্দারকে ঘায়েল করার জন্য এই যুবককে বাদী করে দীর্ঘ ৮ বছর আগের একটি ঘটনায় আদালতে মামলা করা হয়েছে।

এই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসের ২৪ তারিখে সেনাবাহিনীতে পিয়ন পদে চাকুরী দিতে তার কাছ থেকে সাড়ে ৭ লাখ টাকা নিয়ে ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়েছেন স্বর্ণালী জোয়ারর্দার। মামলার অভিযোগটি বিশ্বাস না হওয়ায় এবং অভিযোগটি তামাদী হয়ে যাওয়ায় আদালত এই মামলাটিতে সরাসরি কগনিজেন্স না নিয়ে তদন্তের জন্য মাগুরা সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। অথচ এই ঘটনাকে (তিলকে তাল বানিয়ে) প্রচার করা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

অপরদিকে বেশ কয়েক বছর আগের স্বর্ণালী জোয়ার্দারের জন্মদিনের একটি অনুষ্ঠানের ভিডিওকে অসত উদ্দেশ্যে নোংরাভাবে উপস্থাপন করে একজন সাংবাদিক ও কয়েকজন যুবক ফেসবুকে ছেড়ে দিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।ফেসবুকে এই ভিডিও দেখে এলাকার মানুষ যারপরনাই বিস্মিত হয়েছেন। অপরদিকে স্বর্ণালী জোয়ার্দারের একখানা গাড়ী রেন্ট এ কারে ভাড়া দেওয়া আছে। এই গাড়ীর ড্রাইভার ভাড়া মারতে গিয়ে গাঁজাসহ পুলিশের কাছে গ্রেফতার হয়েছে। সে দ্বায় সম্পুর্ণভাবে ড্রাইভারের। আইন মোতাবেক যদি কোন গাড়ী এক্সিডেন্ট করে বা কোন অপরাধ করে তবে যিনি গাড়ীর মালিক তিনিও আসামী হন। এই মামলাতেও সেটাই হয়েছে।

অথচ: এই মামলার সুত্রধরে স্বর্ণালী জোয়ার্দার রিয়াকে মাদক ব্যবসায়ী হিসাবে প্রচার চালানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে তাকে গ্রেফতার করার জন্য পুলিশ নাকি খুঁজছে। মামলার নথি দৃষ্টে দেখা যায়, প্রায় এক মাস আগেই স্বর্ণালী জোয়ার্দার ওই মামলায় জামিন পেয়েছেন এবং তিনি এখন মুক্তস্বাধীন রাজনীতি ,সমাজ সেবা ও ঘর সংসার করছেন।
এসব অপপ্রচার দেখে শুনে এলাকাবাসী চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

তারা প্রশ্ন রেখেছেন, এ কেমন সাংবাদিকতা ? এ কেমন চরিত্র হননের অপচেষ্টা? এ কেমন নোংরা রাজনীতি? এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, স্বর্ণালী জোয়ার্দার রিয়া এলাকার একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মেয়ে। সর্বাপরি সে পরপোকারী ও জনসেবক। এলাকার নারী জাগরণে তার যথেষ্ট অবদান রয়েছে। বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের একজন পরীক্ষিত নেত্রী তিনি। বিগত সংসদ,উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি রাত দিন মাঠে প্রচারণা চালিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থীর পক্ষে জনমত গঠন করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন। সেই নেত্রীকে বিতর্কিত করতে কেন এই হীন ষড়যন্ত্র? কেন এই অপপ্রচার? কেন এই মিথ্যা মামলা? এলাকাবাসী এই প্রশ্নের উত্তর চেয়েছেন ওই সব হারামখোর সাংবাদিক ও অপপ্রচারকারীদের বিচারও চেয়েছেন।

এ দিকে ক্রমাগত অপপ্রচারের শিকার হয়ে আওয়ামী লীগের মহিলা নেত্রী স্বর্ণালী জোয়ার্দার রিয়া বিষয়টি লিখিতভাবে সংগঠনের শীর্ষ নেতা নেত্রীদের জানিয়েছেন। তাদের পরামর্শেই ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলায় ফেসবুকে ভিডিও আপলোডকারী ও পত্র-পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ প্রচারকারী স্থানীয় সাংবাদিক মিরাজ আহমেদ, ফেসবুকে পোষ্ট শেয়ারদাতা ও তথ্য সরবরাহকারী মাসুম মন্ডলসহ আরো কয়েকজনকে আসামী করা হয়েছে। ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালত মামলা নং ৮৮/২০২৪। ধারা: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৩,২৪,২৫,২৬,২৯, ও ৩৩ ধারা।

মামলাটি বর্তমানে ঢাকার পিবিআই তদন্ত করছে। আসামীদের নোটিশ করা হয়েছে। অপরদিকে এই বিষয়টির অপর ভিকটিম সুমন বাদী হয়ে খুলনা সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন। সেটিও পিবিআইকে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী স্বর্ণালী জোয়ার্দার রিয়ার বলেন, এলাকার একজন মহিলা নেত্রী আমার দলীয় পদ খেয়ে ফেলে নিজেই ওই পদ দখলের জন্যই আমার বিরুদ্ধে এসব ষড়যন্ত্র করছেন। তিনি কিছু অসাধু লোককে টাকা পয়সা দিয়ে ম্যানেজ করে তাদের মাঠে নামিয়েছেন। তারা ৮ বছর আগের একটি ঘটনাকে সামনে এনে আমাকে ঘায়েল করার চেষ্টা করছেন । অথচ: ওই ঘটনার আগা মাথা কিছুই আমি জানি না। যে ছেলে আমার নামে প্রতারণার মামলা করেছে সেই ছেলের মা মিডিয়ার কাছে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা পর্যালোচনা করলেই দেখা যাবে আমি কোন টাকা-পয়সা নেইনি। তিনি সেটা মিডিয়ার কাছে স্বীকারও করেছেন। তার ফুটেজ আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। আর সে যদি টাকাই পাবে তবে এই ৮ বছর চুপ করে ছিল কেন? যেহেতু আমি আসন্ন শ্রীপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছি সেহেতু আরেকজন নেত্রী আমার পেছনে ওঠেপড়ে লেগেছেন। অসাধু লোকদের টাকা খাইয়ে জঘণ্য অপপ্রচার চালাচ্ছেন। আমি তাদের সবার বিরুদ্ধেই আইনগত পদক্ষেপ নেব।