বিশেষ প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, ছবি বিকৃতি, জালিয়াতি ও চাঁদা দাবির অভিযোগে ইয়াসিন মাহমুদের বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেছেন বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা সাংবাদিক তাহমিনা উদ্দিন।
গত ১ ডিসেম্বর ২০২৫, সোমবার, চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালে এ মামলা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ের করা হয়।
অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ
মামলায় সাংবাদিক তাহমিনা উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন ধরে ইয়াসিন মাহমুদ বিভিন্নভাবে তাকে হুমকি-ধমকি, মানহানি, ভুয়া প্রচারণা, এবং চাঁদা দাবি করে আসছেন।১. প্রেসক্লাবের প্যাড জালিয়াতি করে অপপ্রচার অভিযোগে বলা হয়েছে—ইয়াসিন মাহমুদ বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের অফিসিয়াল প্যাড জালিয়াতি করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সুনাম ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
তিনি জাল প্যাডে বিভিন্ন সাংবাদিকের নাম লিখে মিথ্যা তথ্য, ভুয়া বর্ণনা ও ষড়যন্ত্রমূলক ঘোষণা প্রচার করেন এবং এগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে বিভ্রান্তি ছড়ান।
তাহমিনা উদ্দিন বলেন—“বাংলাদেশ প্রেসক্লাব একটি সরকার-নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান। এর প্যাড জাল করে যে কেউ এভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালে সেটি শুধু অপরাধ না বরং প্রতিষ্ঠানের মর্যাদায় সরাসরি আঘাত।”
২. ছবি এডিট করে সামাজিক মাধ্যমে মানহানি, সাংবাদিক তাহমিনার অভিযোগ—ইয়াসিন মাহমুদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে তাহমিনা উদ্দিনের এডিট করা ছবি পোস্ট করেন এবং সেখানে এমন সব মন্তব্য করেন যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর।
ফেসবুকে ইয়াসিন মাহমুদ লেখেন—
তাহমিনা নাকি প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে “টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেন”তিনি নাকি “এডভোকেট পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করেন”তিনি “বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত”তাহমিনা উদ্দিন বলেন— “আমার ছবি বিকৃত করে এমনভাবে পোস্ট করা হয়েছে যেন আমি অপরাধী। এগুলো দেখলে যে কেউ বিভ্রান্ত হবে। এটি আমার নারীসত্তা, সামাজিক মর্যাদা এবং পেশাগত সুনামের ওপর বড় আঘাত।” ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি ও হুমকি,তাহমিনা উদ্দিন জানান, তিনি শান্তিপূর্ণভাবে বিষয়টি সমাধানের জন্য ইয়াসিন মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং মিথ্যা পোস্টগুলো মুছে ফেলার অনুরোধ করেন। কিন্তু উল্টো ইয়াসিন তাকে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন।ইয়াসিন হুমকি দিয়ে বলেন—
“২ লক্ষ টাকা না দিলে আরও খারাপ কিছু লিখে তোমার মান-সম্মান পুরোপুরি ধ্বংস করে দেব।”এই হুমকি তাকে ভীষণভাবে আতঙ্কিত করে তোলে।তিনি বলেন—“আমি একজন নারী সাংবাদিক। এমন হুমকি যেকোনো নারীর জন্য ভয়াবহ। আমার ছেলে-মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন এসব পোস্ট দেখলে তারা গভীর উদ্বেগে পড়ে। সমাজে মুখ দেখানোই কষ্টকর হয়ে উঠেছে।”পরিবার ও সহকর্মীদের প্রতিক্রিয়া ঘটনার পর তাহমিনা উদ্দিনের পরিবার তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।সাংবাদিক মহল থেকেও নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন—এটি একটি ক্লাসিক সাইবার হুমকি ও হয়রানির ঘটনা, যা দেশের নারী সাংবাদিকদের জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার জ্যেষ্ঠ নেতারা বলেন—প্যাড জালিয়াতি ছবি বিকৃতি অপপ্রচার নারীর চরিত্রহনন টাকা দাবি এই সবই আইনের চোখে গুরুতর অপরাধ এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।ট্রাইব্যুনালের অগ্রগতিচট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনাল মামলা গ্রহণ করেছে এবং তদন্তের জন্য প্রাথমিক নথি সংরক্ষণ করেছে।সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী—মানহানি,ছবি বিকৃতি,চাঁদা দাবি,হুমকি প্রদান,ভুয়া তথ্য প্রচার,জাল কাগজপত্র ব্যবহার—এসবই সাইবার অপরাধের আওতায় শাস্তিযোগ্য বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।শেষ কথা: ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা তাহমিনা উদ্দিন বলেন “আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কারও বিরুদ্ধে প্রতিহিংসা নয়—আমি কেবল ন্যায়বিচার চাই। তাই সাইবার ট্রাইব্যুনালের ওপর আস্থা রেখে মামলা করেছি। আশা করি আদালত আমাকে এবং আমার পরিবারকে ন্যায্য বিচার দেবেন।”
সম্পাদক ও প্রকাশক: ব্যারিস্টার মোঃ মনির হোসেন, যোগাযোগ অফিস : ১৯ তলা ইউটিসি বিল্ডিং, কাওরানবাজার, ঢাকা, ১২১৫, মোবাইল : ০১৩২৭-০২২২৮১, ইমেইল : deshnews04@gmail.com
© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২-২০২৩ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি